নতুন সংসার চাই দু’জনার বোঝাপড়া

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২০:০৭
সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে। না, সাংসারিক কাজ এখন আর শুধুমাত্র রমণীদের নিয়ন্ত্রণে নেই! সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ির গৃহকর্তাও সাংসারিক কাজ-কর্ম ভাগ করে নিতে দ্বিধান্বিত নয়। তৌহিদ ও মিথিলার ছোট্ট সংসার। বিয়ে করেছেন কিছুদিন হলো। দু’জনেই চাকরিজীবী। ব্যাংক কর্মকর্তা তৌহিদ আর স্কুলশিক্ষিকা মিথিলা। ছোট্ট এই সংসারে যেন ব্যস্ততার অন্ত নেই। বাসার কাজ সামলিয়ে স্কুলপানে ছুটতে থাকা মিথিলার জীবন যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচতে চায়। সকালের শুরুটা হয় দু’জনের ব্যস্ততা নিয়ে। সকালের নাস্তা বানানো থেকে নিজের তৈরি হওয়া নিয়ে ব্যস্ততা শুরু হয় মিথিলার। অন্যদিকে তৌহিদের খেয়াল রাখা। এরপর সারাদিনের ক্লান্তিকর শরীর নিয়ে বাসায় ফিরে আবারো কাজ। ঘর-গৃহস্থালির অনেক কাজেই বাকি দিনটা কাটে তার। সন্ধ্যাবেলায় অফিস-ফেরত স্বামীর জন্য সময় দেয়া। সবশেষ রাতের খাবারের আয়োজন। সকাল থেকে রাতঅবধি মিথিলার ব্যস্ততার গল্প এটি। কিন্তু সাংসারিক এই ব্যস্ততা শুধুমাত্র মিথিলার না হয়ে তৌহিদেরও সমান হতে পারত। হ্যাঁ, বাস্তবতা ক্রমশই ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে। সংসারের কাজে এখন গৃহকর্তারও হাত লাগছে। মিথিলার ব্যস্ততা দেখে তৌহিদ হাত গুটিয়ে থাকে না, বরং যতটা পারে তাকে সাংসারিক কাজে সাহায্য করে যায়। দিনরাত নববধূ মিথিলার ব্যস্ত সময়ের সঙ্গী হয় তৌহিদ। মিথিলার সহযোগী হিসেবে সব কাজ নিজের করে নেয় সে। রান্না থেকে শুরু করে ঘর গোছানোর কাজে হাত পড়ে দু’জনেরই। অনেক কাজের চাপে একটু সময় নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে করতে পারেন অনেক টুকিটাকি কাজ। এই-ই তো ভালবাসার অনুভূতি! এ তো গেল তৌহিদ-মিথিলার সাংসারিক জীবনের গল্প। এরকম হাজারো গল্প আছে আমাদের চারপাশে। স্বামী-স্ত্রী এখন আরো অনেক বেশি সহনশীল একজন আরেকজনের প্রতি। প্রতিযোগী নয় বরং একান্ত সহযোগীর স্থানে আসীন হবেন বাড়ির গৃহকর্তা এমনটা যেন সব মেয়ের কামনা । বিয়েটা প্রেমের হোক কিংবা পারিবারিক, সঙ্গীকে কতটুকুই জানা হয় বলুন? অনেক জানাশোনার পরেও এমন কিছু বিষয় থেকে যায় যেগুলো জানা হয়ে ওঠে না। আপাতদৃষ্টিতে যেগুলোকে ছোটখাটো মনে হয়, বিয়ের পরে সে রকম অনেক কিছুই সৃষ্টি করে নানান রকমের সমস্যা। তখন মনে হয় যে বিষয়গুলো সম্পর্কে বিয়ের আগেই ভালোভাবে জেনে নেয়া উচিত ছিলো। জেনে নিন তেমনই কিছু বিষয় সম্পর্কে। আর পুরুষ হয়ে গৃহস্থালির কাজে হাত লাগানো যাবে না এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে এসেছেন অনেকেই। পুরনো ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসে অনেক পুরুষই এখন গৃহকর্ত্রীর সংসারের টুকিটাকি কাজে সাহায্য করছেন। এতে করে পুরুষের আত্মসম্মানের জায়গাটা মোটেও কমছে না বৈকি ! নবদম্পতি হিসেবে স্বামী-স্ত্রী পরস্পর পরস্পরের প্রতি হয়ে উঠতে পারেন সহযোগী ও সব কাজের প্রেরণাদায়ক। আপনার সঙ্গীর শখগুলোর প্রতি আগ্রহ দেখান। এতে আপনার সঙ্গীও আপনার শখগুলোর প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবেন। আপনার সঙ্গীর কোনো শখ যদি আপনার বিরক্তির কারণ হয়ে থাকে তাহলে সেটা তাকে বুঝতে দেবেন না। এতে সম্পর্কটা আরো সুন্দর হবে। সেইসঙ্গে কেটে যাবে সম্পর্কের একঘেয়েমি। প্রেমের শুরুতে কিংবা বিয়ের পর পর হাত ধরেই হাঁটতেন দু’জনে। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পরই হাঁটতে শুরু করেছেন নিজেদের মত করে। সেই পরস্পরকে ছুঁয়ে থাকার স্বভাবটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। আবারো ধরে ফেলুন সঙ্গীর হাতটি। কারণ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে যেসব দম্পতি হাত ধরে হাঁটেন তাদের নিজেদের মধ্যে ভালোবাসা ও নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি হয় যা সম্পর্ককে সুখের করে তোলে। সম্পর্কটা যতদিনের পুরোনোই হোক না কেন প্রতিদিনই সঙ্গীকে একবার করে ভালোবাসার কথা জানিয়ে দিন। ভালোবাসার কথা প্রতিদিন জানিয়ে দিলে সম্পর্ক কখনোই পুরনো হয় না। বেশিরভাগ দম্পতিই সঙ্গীর দোষ খুঁজে বেড়াতে পছন্দ করেন। ফলে সম্পর্ক ভালো হওয়ার বদলে উল্টো খারাপ হতে থাকে। তাই অহেতুক সঙ্গীর দোষ না খুঁজে চেষ্টা করুন গুণগুলো খুঁজে বের করার। পুরুষশাসিত সমাজে কৃতিত্বমূলক কাজগুলো যে শুধুমাত্র পুরুষরা করবে সেটা যেমন একতরফা সত্যি নয়, তেমনি ঘরের কাজে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকবে শুধু নারীরা সেটাও ঠিক নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আর সহানুভূতির মানসিকতা নিয়ে স্বামী-স্ত্রী নিতে পারেন সাংসারিক যে কোন সিদ্ধান্তই। একগুঁয়েমিতা পরিহার করে একজন আরেকজনকে বুঝতে শিখুন। সবকিছুই শেয়ার বা ভাগাভাগি করে করতে শিখুন। আর পারস্পরিক ভালোবাসায় ভরে তুলুন আপনার ভালোবাসার ছোট্ট ভুবন। কৃতজ্ঞতা: আব্দুর রহমান সাকিব ও তার স্ত্রী ছবি: রেজা চৌধুরী