পুরুষ শাসিত সমাজে নারীরা যে বৈষম্যের শিকার সেটা নতুন করে বলার কিছুই নেই। আর নারীর অধিকার তো শুধুই কাগজে-কলমে। যদিও নারীর অধিকার নিয়ে অতীতে মাতামাতি কম হয়নি বা বর্তমানেও কম হচ্ছে না। কিন্তু তারপরেও তারা অবহেলিত। নারীরা ব্যবহূত হয়ে আসছে পণ্য হিসেবে। সমাজে নারীরা কোন ক্ষেত্রেই পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে না থাকলেও তারা তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত। নারী-পুরুষদের যে সমান অধিকারের কথা বলা হয় প্রকৃতপক্ষে তা অনেকাংশেই ব্যাহত। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের উন্নতির সাথে সাথে সামাজিক অবস্থারও পরিবর্তন সম্ভব।
নারী-পুরুষের বৈষম্যের আরেকটি বড় কারণ নারী নির্যাতন। যেখানে পরিবারেই নারীরা তাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা পায় না সেখানে সমাজ তাদেরকে তাদের প্রাপ্য দিবে না এটা স্বাভাবিক। ঘরে-বাইরে প্রতিটা ক্ষেত্রেই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে নির্যাতিত হচ্ছে তারা। সমাজে ধর্ষণ, এসিড নিক্ষেপ, যৌতুক আদায়, গৃহ পরিচালিকা নির্যাতনের ঘটনা আজকাল অনেকটা পানিভাত। নারীদের সমান সুযোগ দেয়ার কথা বলা হলেও নারীদের অধিকার যে শুধুমাত্র কোটাভিত্তিক তা সহজেই অনুমেয়। নারীদের অধিকার রক্ষার জন্য সচেতনতা সবচেয়ে বড় ওষুধ। আর একটি বড় ব্যাপার হল নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। পরিবার থেকেই যদি নারীদের প্রতি অবহেলার দৃষ্টি দূর করা সম্ভব হয় তাহলে একসময় এটি পুরো জাতির উপর প্রভাব পড়বে যাতে করে নারীদের প্রতি বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে।
নারী নেতৃত্ব নারীর অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে আরেকটি অন্যতম ভূমিকা পালনকারী বিষয়। তাই নারী নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতে হবে। কর্মক্ষেত্রে নারীরা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হন। অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজে সাধারণত নারীদেরকে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হয় না। মনে রাখতে হবে, নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই নারীরা আজ সমাজের অনেক ক্ষেত্রে প্রধানের ভূমিকায় আসীন রয়েছে।
মেয়ে নয় নারীদেরকে মানুষ হিসেবে দেখতে হবে। তাদের মতামত এবং ইচ্ছার মূল্যায়ন করতে হবে। তাহলেই পরিবর্তন আসবে। পুরুষদেরকেও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসতে হবে নারীর অধিকার রক্ষায়। পরিবার তথা সমাজে নারীদেরকে নারী হিসেবে নয় একজন নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে। বাড়াতে হবে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হতে হবে নারীবান্ধব। নারী পুরুষের যে সমান অধিকার বলা হয় তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে হবে সরকারকে।
