নাসিরনগর, রায়পুর, চন্দনাইশ, শিবগঞ্জসহ বিভিন্নস্থানে কয়েকদিনের টানা বর্ষণে জনজীবন বিপর্যস্ত। খবর- ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
ছাতক (সুনামগঞ্জ)
টানা ভারীবর্ষণ ও পাহাড়িঢলে ছাতক পৌরসভাসহ উপজেলার ইসলামপুর, নোয়ারাই, কালারুকা, চরমহল্লা, ছাতক সদর, জাউয়া, সিংচাপইড়, উত্তর খুরমা, ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এফআইভিডিবি’র বাহাদুরপুর, গাংপাড় নোয়াকোট, লুবিয়া, নিজগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াকোট মাদ্রাসা ও মুক্তিরগাঁও মাদ্রাসা বন্যায় জলমগ্ন হয়েছে।
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
গত ৪/৫ দিনের টানা বৃষ্টিতে নাসিরনগর উপজেলার জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এতে খেটে-খাওয়া মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে। গতকাল রবিবার নাসিরনগরের কোথাও সূর্যের দেখা মেলেনি। টানা বৃষ্টির কারণে লোকজন ঘরের বাইরেও যেতে পারছে না। বিশেষ করে নিম্নআয়ের, দিনমজুর ও দরিদ্র মানুষজন পড়েছে চরম বিপাকে। নিম্নআয়ের মানুষ কাজ না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে।
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
বুধবার ধরে ৪ দিনের প্রবল বর্ষণে রায়পুর উপজেলার বামনী, কেরোয়া, চরপাতা ও চরমোহনা ইউনিয়নসহ নিম্নাঞ্চলের ৫ হাজার হেক্টর আমন ফসলের জমিসহ বিভিন্ন ফসলি জমিও পানিতে ডুবে গেছে। উপকূলীয় এলাকার লোকজন জানান, নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরে মেঘনা উপকূলীয় চরকাচিয়া, চরইন্দ্ররীয়া, চরঝালিয়া ও কানিবগারচর এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে এবং বাড়িঘরে পানি উঠেছে। দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের মনির হোসেন মোল্লা জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তার ইউনিয়নের মোল্লারহাট এলাকার ৫ হাজার দরিদ্র পরিবারের লোকজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ)
গত কয়েকদিন মাঝারি বৃষ্টির পর শনিবার ভারি বর্ষণে শিবগঞ্জ-সোনা মসজিদ মহাসড়ক, শিবগঞ্জের বিভিন্ন রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাট বাজার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই।
রাস্তাঘাটগুলো হলো কানসাট-সোনা মসজিদ মহাসড়ক, কানসাট-বিনোদপুর সড়ক, শিবগঞ্জ-মনাকষা সড়ক, মনাকষা-ঠুঠাপাড়া সড়ক, শিবগঞ্জবাজার হয়ে ইসরাইল মোড় পর্যন্ত সড়কে হাঁটু পানি জমায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এত কষ্টের মধ্যে মানুষ চলাচল করলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন মাথা ব্যথা নেই।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইরতিজা আহসান জানান, এই সড়কের বেহাল দশার কারণে জনদুর্ভোগ হচ্ছে । তবে বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বে আছে। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে কথা বলেছি।
কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান কুলিয়ারচর কালীবাড়ি কমপ্লেক্সে ।
একটু বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতায় পূজারী ও এলাকাবাসীর চলাচলে ও পূজা-পার্বনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। শ্রীকৃষ্ণ মন্দির, কালী মন্দির, দুর্গা মন্দির, লোকনাথ মন্দির, লোকনাথ পাঠাগার, মৌনিবাবাজীর আশ্রমসহ মন্দির ভিত্তিক শিশু ও বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রমের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্ট-এর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর সুব্রত দাস জানান, পানি নিষ্কাশনের কোনো উদ্যোক্তা না থাকায় অত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ মহল্লার জনগণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পৌর এলাকার বাড়িঘরে একটু বৃষ্টিতে পানি উঠছে। কাউন্সিলর নন্দলাল দাস জানান, কুলিয়ারচর উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কেন্দ্রীয় প্রার্থনালয় কালীমন্দির প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না ।
