জয়াবর্ধনের বিদায়ের মঞ্চ প্রস্তুত

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২২:০৩
মাহেলা জয়াবর্ধনকে জয় দিয়ে বিদায় জানানোর সব প্রস্তুতিই প্রায় সেরে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা। অভাবনীয় কিছু করতে না পারলে প্রথম টেস্টের মতো শেষ টেস্টেও পাকিস্তানের পরাজয় প্রায় নিশ্চিতই বলা যায়। প্রায় বলতে হচ্ছে এই কারণে যে, প্রতিকূল স্রোতের বিরুদ্ধে লড়ে এখনও উইকেটে টিকে আছেন সিরিজে দলের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান সরফরাজ আহমেদ। আজ শেষ দিনে, ৩ উইকেট হাতে নিয়ে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৪ রান করার পথে নেতৃত্ব দিতে হবে এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যানকেই। তবে উইকেটের আচরণ এবং রঙ্গনা হেরাথের পারফরম্যান্স বলছে সেটা করাটা হিমালয় ছোঁয়ার মতো কঠিন হবে সফরকারীদের জন্য। লঙ্কানদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮২ রানে অল আউট করার পর পাকিস্তানের জন্য জয়ের লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়ায় ২৭১ রানের। প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেট নেয়া হেরাথ এই ইনিংসেও হয়ে ওঠেন সফরকারীদের মূল হন্তারক। তার ৪ উইকেটে পাকিস্তান ৭ উইকেটে ১২৭ রান নিয়ে দিন শেষ করে। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সরফরাজ খেলছিলেন ৩৮ রান নিয়ে। কুমারা সাঙ্গাকারার সাথে অপরাজিত ৯৮ রানের জুটি গড়ে আগের দিনই শ্রীলঙ্কাকে ম্যাচে এগিয়ে দেয়া জয়াবর্ধনে কাল অবশ্য নিজের শেষ ইনিংসটাকে খুব বেশি দূর টেনে নিতে পারেননি। তবে তার আগেই টেস্ট ক্যারিয়ারে ফিফটির ফিফটি তুলে নেন এই স্টাইলিশ ডান হাতি ব্যাটসম্যান। তবে তাদের ১০৭ রানের জুটিটি ভাঙে কুমারা সাঙ্গাকারার বিদায়ে। আজহার আলীর ক্যাচ বানিয়ে সাঙ্গাকারাকে বিদায় করে লঙ্কানদের দিনের প্রথম ধাক্কাটি দেন সাইদ আজমল। এরপর জয়াবর্ধনকেও ফেরান এই ডান হাতি স্পিনারই। বিদায় বেলায় সতীর্থদের পাশাপাশি মাঠে উপস্থিত বিপুল পরিমাণ দর্শকও দাঁড়িয়ে সম্মান জানান এই কিংবদন্তিকে। আজমলের পাশাপাশি ওয়াহাব রিয়াজও উইকেট শিকারে যোগ দিলে লঙ্কানদের ইনিংস খুব বেশি দূর গড়াতে পারেনি। তারা থেমে যায় ২৮২ রানে। অপরাজিত ৪৩ রান করে ইনিংসটাকে এত দূর পর্যন্ত টেনে আনেন মূলত অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস। তিনটি করে উইকেট নিয়ে আজমল এবং রিয়াজ ছিলেন সফরকারীদের পক্ষে সফল দুই বোলার। বল হাতে সাফল্যের আনন্দ অবশ্য মিলিয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগেনি পাকিস্তানের। দলীয় ২১ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দিয়ে শুরুতেই লঙ্কানদের সাফল্য এনে দেন পেসার ধাম্মিকা প্রসাদ। এরপর আবার সেই হেরাথ শো। প্রথম ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে ছিড়ে ফেলা এই বাঁহাতি স্পিনার শুরু করেন আজহার আলীকে জয়াবর্ধনের ক্যাচ বানিয়ে। যেটা ছিল জয়াবর্ধনের ২০৫তম ক্যাচ। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে যথাক্রমে মিসবাহ-উল হক, ইউনুস খান এবং আসাদ শফিককে তুলে নিয়ে তাদের মিডল অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন হেরাথ। আর দিনের শেষ ব্যাটসম্যান হিসাবে আবদুর রেহমানকে আউট করেন দিলারুয়ান পেরেরা। প্রথম ইনিংসে ইতিহাসের প্রথম বাঁহাতি বোলার হিসাবে ৯টি উইকেট নেয়া হেরাথ দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়েছেন ৪৬ রান খরচায়। আর টেস্টের তৃতীয় দিন প্রথম পাকিস্তানি উইকেট রক্ষক হিসাবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া সরফরাজই ছিলেন ইনিংসের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক। আজ শেষ ৩ উইকেট হাতে নিয়ে অবশিষ্ট ১৪৪ রান করার যুদ্ধে নামবেন এই তরুণ। ক্রিকইনফো