উখিয়ার জেলে পল্লীতে দুর্দশার শেষ নেই

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৪
সতর্ক সঙ্কেত উপেক্ষা করে সাগরে জাল ফেলেও মিলছে না ইলিশ। জ্বালানি খরচ, খাবার খরচ মিটিয়ে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। তাই উপকূলীয় এলাকার ফিশারিঘাটগুলোতে জেলেরা বসে আছেন নোঙ্গর করে। উখিয়ার উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে ওঠা জেলে পল্লীর মানুষের দিন কাটছে অনাহারে-অর্ধাহারে। মহাজনদের ঋণের টাকা পরিশোধ দূরের কথা মারাত্মক অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়ে এদের পরিবার-পরিজন মানবেতর দিন যাপন করছে। উপকূলীয় এলাকা মাঙ্গালাপাড়া ফিশারিঘাট ঘুরে দেখা যায়, উপকূলে নোঙ্গর করা অসংখ্য ফিশিং বোট। জানা যায়, দীর্ঘ ৩ মাস যাবত্ সাগরে আসা-যাওয়ার পরেও মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে জেলেদের। ইলিশ বাদে অন্যান্য প্রজাতির সামান্য কিছু মাছ পাওয়া গেলেও তা দিয়ে দৈনন্দিন খরচ মিটাতে পারছেন না জেলেরা। মহাজনের টাকাও ফেরত দিতে পারছেন না তারা। ফিশিং বোট মালিক মাঙ্গালাপাড়া গ্রামের আবুল কালাম জানান, মাছ ধরার জন্য একবার সাগরে যেতে বিভিন্ন খাবার সামগ্রী, জ্বালানি ও শ্রমিকের মজুরিসহ প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়। এভাবে কয়েকবার সাগরে গিয়ে ১০/১২ দিন অপেক্ষা করার পরও মাছ না পেয়ে জেলেদের খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। ফিশিং বোটের মাঝি আব্দুর রহমান বলেন, ভরা মৌসুমেও সাগরে ইলিশ না পাওয়ার কারণে মহাজনদের ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। মহাজনরা বাড়িতে এসে ঋণের টাকা আদায়ের জন্য জ্বালাতন করছে। পরিবারের নিত্যদিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই ছেলে-মেয়েদের অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে। সোয়াংখালী গ্রামের হাশেম মাঝি জানান, উপকূলে বসবাসরত হাজারো জেলে পরিবার এ তিন মাস মাছ ধরে বাকি ৯ মাস অলস জীবন-যাপন করে। চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত সাগরে মাছ না পাওয়ার কারণে প্রতিটি জেলে পরিবারের অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছে। মাছের আড়তের মালিক হোছন আহমদ বলেন, যেসব জেলে মাছ দেয়ার কথা বলে আগাম টাকা নিয়ে গেছে এখন আর তাদের দেখা মিলছে না। উপজেলা মত্স্য কর্মকর্তা হুমায়ুন মোর্শেদ জানান, বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ ও আষাঢ় মাসে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ইলিশের ঝাঁক কূলে আসেনি। এ কারণে সাগরে মাছের আকাল দেখা দিয়েছে।