মারা গেলেন অমরনাথ দে। রেখে গেলেন পাঁচটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু টাকা, দুটি সরকারি ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট, কিষাণ বিকাশ পত্র, পোস্ট অফিসে সঞ্চয় আর জীবন বীমার নথি। বাড়িতে নগদ হাজার পনেরো টাকা, দুটি সোনার আংটি, দুটি মোবাইল ফোন। সব মিলিয়ে অন্তত ১৮ লক্ষ টাকা। ধনী ভিক্ষুক যাকে বলে!
না, চাকরি বা ব্যবসা করে নয়। অমরনাথ টাকা করেছেন স্রেফ ভিক্ষা করে। তার মেয়েরা অবশ্য বাবার এমন সঞ্চয়ের কথা আদতেই জানত না। পারলৌকিক কাজের পর আরামবাগের পারের ঘাটে ভাড়া-করা ঘর থেকে বাবার জিনিসপত্র সরাতে গিয়ে দুই বোন হতবাক। কয়েকটি চটের পুরোন বস্তা, আর মরচে-ধরা টিনের বাক্স থেকে যা বেরোল, তা নিয়ে শনিবার গোটা পাড়ায় শোরগোল পড়ে যায়। রহস্যের গন্ধ পেয়ে চলে আসে পুলিশও। জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তার উক্তি, একজন ভিখারির কাছে ওই পরিমাণ টাকা, ভাবাই যায় না। তাই টাকার উত্স সন্ধানে খোঁজ-খবর নিতেই হচ্ছে।
নিষ্ঠাভরে পরিশ্রম করলে যে ভিক্ষাবৃত্তিতেও সাফল্য লাভ হতে পারে, তা যেন চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন অমরবাবু। প্রতিবেশি জয়দেব মাল জানালেন, ভোর থাকতেই একটা ছেঁড়া ধুতি অথবা গামছা জড়িয়ে, ভর করে হেঁটে যেতেন বছর পঞ্চাশের ভদ্রলোক। মনে হত, যেন কোনও অসুস্থ মানুষ আসছেন। সেটাই টিআরপি ছিল ওই বৃদ্ধের। কোথায় না যেতেন তিনি? বাঁকুড়ার কোতুলপুর, বর্ধমানের বুলচন্দ্রপুর, উচানল। কামারপুকুর, জয়রামবাটি। আরামবাগ থেকে যে সব দূরপাল্লার বাস ছাড়ে, প্রতিদিন তার কোনও একটাতে উঠে পড়তেন। বৃদ্ধ ভিখারির কাছে ভাড়া চাইবে কে? শান্ত ভঙ্গিতে হাতটি বাড়িয়ে দিলে ক’জনই বা মুখ ঘুরিয়ে নিতে পারে? - আনন্দবাজার পত্রিকা
