অবশেষে পুলিশ প্রটোকল পেলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। ঢাকা থেকে সরকারি সফরে এসে কুমিল্লায় পুলিশ প্রটোকল না পেয়ে নগরীর শাসনগাছা এলাকায় তিনি প্রায় এক ঘন্টা যানজটে আটকা পড়ে ভোগান্তির শিকার হন। এ নিয়ে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হলে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে তাঁর পুলিশ প্রটোকলের ব্যবস্থা করা হয়।
জানা গেছে, বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ গত ৬ আগস্ট বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেন। সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী গত শনিবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা সার্কিট হাউসের কনফারেন্স কক্ষে জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে তাঁর বৈঠক নির্ধারিত ছিল। ওইদিন সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তিনি ঢাকা থেকে কুমিল্লা মহানগরীর শাসনগাছা এলাকায় পৌঁছেন। ওইসময় তাঁর গাড়ির সাথে পুলিশের কোন প্রটোকল না দেয়ায় তিনি শাসনগাছায় যানজটে আটকা পড়ে প্রায় এক ঘন্টা দুর্ভোগের শিকার হন। এতে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘন্টা পরে তিনি ওই মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
এ বিষয়ে তাঁর ভাতিজা শাহপরান আজাদ জানান, কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একেএম মামুনুর রশিদ প্রটোকলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সুপারকে অবগত করেন। পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্তী সাবেক বিচারপতিকে তাঁকে প্রটোকল দেয়া যায় কি-না দেখতে হবে বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একেএম মামুনুর রশিদ জানান, ‘ঢাকা থেকে সফরসূচি পেয়ে তাঁর প্রটোকলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারকে চিঠি দেয়া হয়েছিল।’
এদিকে ভিআইপি হিসেবে কুমিল্লা পুলিশ তাকে প্রটোকল না দেয়ায় সাংবাদিকসহ বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় শেষে কুমিল্লা থেকে ফেরার পথে পুলিশ সুপার সার্কিট হাউসে গিয়ে প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের সাথে সাক্ষাত্ করেন এবং ফেরার পথে তাঁর পুলিশ প্রটোকলের ব্যবস্থা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় জানান, আমার কুমিল্লা সফরের বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়েছিল। সে মোতাবেক জেলা প্রশাসন থেকে পুলিশ সুপারকে চিঠি দিলেও কুমিল্লা অংশে পুলিশ প্রটোকল দেয়া হয়নি। ফলে যানজটে দীর্ঘক্ষণ আটকা পড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ওই সভায় যোগ দিতে পারিনি। পরে ফেরার পথে পুলিশ প্রটোকল দেয়া হয়। এ বিষয়ে পুলিশ সুপারের সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
