টাকার অভাবে ডিএনএ টেস্ট না হওয়ায় মামলাগুলো ঝুলে আছে

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫৬
ঠাকুরগাঁওয়ের ১৫টি শিশু পিতৃপরিচয় বঞ্চিত ঠাকুরগাঁও আদালতে ঝুলে আছে স্ত্রীর জন্য স্বামী এবং সন্তানের জন্য পিতৃপরিচয় দাবির ১৫টি মামলা। টাকার অভাবে ডিএনএ টেস্ট করতে না পারায় এ মামলাগুলোর সমাধান হচ্ছে না। শহরের কলেজ পাড়ার অভাবী বাবা সানোয়ার হোসেন শানুর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কন্যা আঁখি ও আলো। দুই জনের বয়স এখন ১৭-এর কাছাকাছি। এই দুই কিশোরীর মাতৃত্বে বড় হচ্ছে তাদের পিতৃ পরিচয়হীন সন্তান। আলোর সাড়ে তিন বছরের হাসনা বানু ও আঁখির ৯ বছরের মীমও প্রতিবন্ধী। স্বামী ও পিতার স্বীকৃতির দাবিতে দুই জনেরই মামলা ঠাকুরগাঁও নারী শিশু আদালতে বিচারাধীন। এ মামলা দুইটির বিষয়ে জানতে চাইলে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু আদালতের বিশেষ পিপি নজমুল হুদা জানান, শুধু আলো ও আঁঁখি নই, নারী শিশু আদালতে এরকম ১৫টি মামলা রয়েছে বিচারাধীন। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে এই ১৫টি মামলার ভিকটিম তাদের সন্তানদের পিতৃ পরিচয় পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, এসব মামলা ১৩-১৪ বছর আগের। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে চার্জশিট দিলেও ডিএনএ টেস্ট না করতে পারার কারণে এখনো পর্যন্ত মামলাগুলো ঝুলে রয়েছে। তিনি আরো জানান, ডিএনএ টেস্ট করতে ঢাকায় পাঠাতে হয়। এজন্য প্রয়োজন ১৫ হাজার টাকা। মামলার ভিকটিম, অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তাদের সন্তানসহ তিন জন পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় পাঠানোসহ মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২০ হাজার টাকা। ভিকটিমের পরিবারগুলো গরীব হওয়ায় তারা এই টাকা যোগাড় করতে পারে না। অপরদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা গ্রেফতার না হওয়ার কারণেও মামলাগুলো এতদিন ধরে ঝুলে রয়েছে। গত ছয় মাস আগে লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে একটি মামলার ডিএনএ টেস্টের খরচ হিসেবে ১৫ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। তাদের কাছে টাকার জন্য আরো ছয়টি আবেদন করা হয়েছে; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইডের কার্যক্রম সক্রিয় না থাকায় তাদের কাছে আশানুরূপ সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।