কারখানার বর্জ্য ও দূষিত পানিতে ডুবে আছে মির্জাপুরের এক মাদ্রাসা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ২২:০২
ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে কলকারখানার দূষিত বর্জ্য ও পচা পানিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে এখানকার একটি মাদ্রাসা। সেই সাথে মাদ্রাসা সংলগ্ন মসজিদের ভেতরে নোংরা পানি ওঠায় মুসল্লিরা নামাজ আদায় করতে পারছেন না। মাদ্রাসার ভেতরে জমে গেছে কোমর পানি। কোমলমতি শতাধিক শিশুর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। শিশুদের অধিকাংশই এতিম এবং ঐ মাদ্রাসাতেই গরীব-দুঃখী এসব শিশুর বসবাস। জলাবদ্ধতার কারণে তারা অতি কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। পচা পানিতে হেঁটে অনেকের খোসপাচড়াসহ নানা রকম রোগ দেখা দিয়েছে। গোড়াই-সখীপুর রোডের ধারে অবস্থিত গোড়াই জামিয়া নূরইয়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসা ও মসজিদে গত দেড় মাস ধরে এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার ঐ মাদ্রাসা ও মসজিদে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে সেখানকার দুরবস্থা, কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিদারুণ দুর্ভোগের চিত্র। মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার ও শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মোঃ শাহ আলম জানান, কোরআন শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে এলাকার শিক্ষানুরাগী খন্দকার নূরুল ইসলাম ও আনিছুর রহমানের প্রচেষ্টায় ১৯৯৭ সালে এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে হেফজ বিভাগ, কিতাব বিভাগ, কোরআনা শিক্ষা বিভাগ ও একটি ইসলামী কিন্ডার গার্টেন রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানে অনাথ, অসহায় ও এতিম শিশু-কিশোররা কোরআন শিক্ষাসহ কিন্ডার গার্টেনে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে থাকে। বর্তমানে এখানে প্রায় ১শ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছে বলে জানান শিক্ষকবৃন্দ।। কিন্ু্ত গত দেড় মাস ধরে মাদ্রাসার চারপাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় ছাত্র-ছাত্রীরা সেখানে পড়াশোনা করতে পারছে না । মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও কোমলমতি শিশু-কিশোরদের অভিযোগ, মাদ্রাসার পাশে গড়ে ওঠা নাহিদ কটন মিলসের ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়ায় কারখানার বর্জ্য ও দূষিত পানি জমে মাদ্রাসার মাঠে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এলাকার আবু সাইদ ও নূরুল ইসলাম নামে দুই প্রভাবশালী ব্যক্তি পুকুর কেটে মাছের খামার করায় পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতার। মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা মোঃ রুকন উদ্দিন অভিযোগ করেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, নাহিদ কটন মিল কর্তৃপক্ষ, পুকুরের মালিক এবং উপজেলা প্রশাসনকে বার বার অনুরোধ করার পরও তারা কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না । জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে নাহিদ কটন মিলের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মিলের বর্জ্য ও পানির কারণে মাদ্রাসা মাঠে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়নি। জলাবদ্ধতা হয়েছে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির পুকুরের পানি থেকে। এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার নাসরিন সুলতানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, লিখিত কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে মাদ্রাসাটির চারপাশে জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।