সামান্য একটা হাফ সেঞ্চুরি দিয়ে কি আর গ্রেটনেসের প্রমাণ পাওয়া যায়? প্রশ্নের উত্তরটা অবশ্যই না-বোধক। শেষ ইনিংসেও প্রিয় বন্ধু কুমার সাঙ্গাকারার সাথে মিলে শতরানের জুটি গড়লেন। তাতেও কিছু প্রমাণ হয় না।
মাহেলা জয়াবর্ধনেকে আসলে একটি ম্যাচ বা একটি ইনিংস দিয়ে বোঝার কোন উপায় নেই। তবে, তার এক চিলতে ঝলক দেখা গেল গতকাল কলম্বোর সিংহলিজ ক্রিকেট ক্লাব মাঠে; যখন খেলা শেষে জয় নিশ্চিত হওয়া মাত্রই সতীর্থরা ছুটে গেলেন তার কাছে। কাঁধে তুলে নিয়ে গোটা মাঠ ঘুরে বেড়ালেন।
এখানেই শেষ নয়, পরিবারও ছিলেন তারই সাথে। আর দর্শক-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস, আবেগ ও ভালোবাসায় সিক্ত হওয়াও তো আছেই। সব মিলিয়ে এভাবেই বিদায় ঘটলো এক ক্রিকেট মহানায়কের। বিচ্ছেদ ঘটলো ১৭ বছরের এক সম্পর্কের।
ব্যাটসম্যান জয়াবর্ধনের বিশালত্ব বোঝাতে একটা তথ্যই যথেষ্ট। ইতিহাসে মাত্র পাঁচজনকেই দেখেছে যারা টেস্ট ও ওয়ানডে — দুই ফরম্যাটেই করেছেন ১১ হাজার রান। তাদের একজন হলেন জয়াবর্ধনে। বাকিরা হলেন — শচিন টেন্ডুলকার, রিকি পন্টিং, জ্যাক ক্যালিস ও কুমার সাঙ্গাকারা।
আর কি দানবীয় শুরুটাই না ছিল মাহেলার! কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ১৯৯৭ সালে যখন ব্যাট হাতে নেমেছিলেন দলের রান তখনই পৌঁছে গিয়েছিল আকাশের চূড়ায়। ৭৯০ রান! চতুর্থ উইকেট পতনের পর তিনি নেমে করেছিলেন ৬৬ রান। তাতেই ৯৫২ রানের বিশ্বরেকর্ড করে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা।
সেদিনের সেই ২০ বছর বয়সী তরুণের বিদায়ী টেস্ট শেষ হয়ে গেল গতকাল। প্রিয় মাঠ থেকেই বিদায় বললেন তিনি। ২৭ টি টেস্টে এই স্টেডিয়ামটিতে তিনি করেছেন ১১ সেঞ্চুরি আর ৯ টি হাফ সেঞ্চুরি।
ম্যাচ শেষে চির চেনা সেই হাসি নিয়ে আসলেন সংবাদ সম্মেলনে। ঠিক যেমনটি আগে আসতেন অধিনায়ক হয়ে, কিংবা দারুণ কোন এক ইনিংস খেলে; বিন্দুমাত্র নতুনত্ব নেই। কথাগুলো অবশ্য নতুনই ছিল, ‘আসলে অবসর নেয়ার সিদ্ধান্তটা তো আর এক দিনের নয়। অনেকদিন ধরেই এটা নিয়ে ভাবছিলাম। আর আমার মনে হয় এটাই আমার জন্য সঠিক সময়। এটা আমাকে একটা তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি দিচ্ছে, ঠিক সব সময় যেমন দিয়ে এসেছে। আমি চাইলে আরও ১২ মাস অনায়াসে টেস্ট খেলে যেতে পারতাম। কিন্তু এখন সময় আসলে তরুণদের। ওদের এখন দায়িত্ব নেয়ার সময় চলে এসেছে। আমি গর্ব করে বলতে পারি, কেবল আমি নই, মাঠের বাইরে থেকে সমর্থকরাও আমার হয়ে খেলেছেন। তাই শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলাটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
সংবাদ সম্মেলন শেষ হল। গণমাধ্যমকর্মীরা উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানালেন। আবারও সেই ভুবন ভোলানো হাসি। ঠিকরে বের হয়ে আসা আত্মবিশ্বাস। হয়ে গেল মহানায়কের শেষ মঞ্চায়ন।
এমন একটা বিদায় কে না চায়!
এক নজরে ...
টেস্ট ওয়ানডে টি-টোয়েন্টি
ম্যাচ ১৪৯ ৪২০ ৫৫
ইনিংস ২৫২ ৩৯৩ ৫৫
অপরাজিত ১৫ ৩৮ ৮
রান ১১৮১৪ ১১৬৮১ ১৪৯৩
সেরা ৩৭৪ ১৪৪ ১০০
স্ট্রাইক রেট ৫১.৪৫ ৭৮.০৬ ১৩৩.১৮
সেঞ্চুরি ৩৪ ১৬ ১
হাফ সেঞ্চুরি ৫০ ৭২ ৯
ক্যাচ ২০৫ ২০৪ ১৭
