পোলার্ডের পরীক্ষা

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ২২:১১
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (সিপিএল) ট্রফি তুলে ধরলেন। ঠোঁটে ভুবন ভোলানো হাসি। বার্বাডিয়ানদের জন্য স্বস্তির বাতাস বয়ে দেয়ার এক মুহূর্ত। কিন্তু সেই মুহূর্তের জনক কাইরন পোলার্ড কি ঠিক স্বস্তিতে ছিলেন? ভাবভঙ্গী বা কথায় কোন কিছু অনুমান করা গেল না। কিন্তু নি:সন্দেহে বলে দেয়া যায় এই মুহূর্তে ঠিক স্বস্তিতে নেই তিনি। বার্বাডোজ ট্রাইডেন্টসের হয়ে সিপিএলের শিরোপা জিতে যাওয়ার চার দিন বাদেই যে তাকে নেমে যেতে হচ্ছে নতুন এই যুদ্ধের মঞ্চে। কাল থেকে শুরু হওয়া নতুন সেই পরীক্ষায় তাকে যে করেই হোক ভাল নম্বরসহ পাস করে যেতে হবে। পরীক্ষার নাম হল বাংলাদেশ। আগামীকাল থেকে গ্রেনাডার জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। সব কিছু ঠিক থাকলে এই ম্যাচ দিয়েই এক বছরেরও বেশি সময় বাদে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে ফিরে আসছেন এই ত্রিনিদাদিয়ান। সেন্ট লুসিয়ায় পাকিস্তানের বিপক্ষে গত বছর জুলাইয়ে খেলেছিলেন শেষ ওয়ানডে। এরপর কনুইয়ের ইনজুরির কারণে প্রায় এক বছর ছিলেন দলের বাইরে। ইনজুরি কাটিয়ে গত জুলাইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ফিরেছিলেন টি-টোয়েন্টি সিরিজে। তবে, তার বড় পরীক্ষাটা হবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেই। ফেরার লড়াইয়ে পোলার্ড প্রেরণা হিসেবে নিতে পারেন সিপিএলের পারফরম্যান্সকে। ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো রেড স্টিল ছেড়ে এসেছিলেন বার্বাডোজ দলের হয়ে খেলতে। অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়েই করেছেন বাজিমাত্। প্রথম দফাতেই জিতে গেছেন চ্যাম্পিয়নের ট্রফি। তার অধিনায়কত্ব টুর্নামেন্ট জুড়ে এতোটাই মুগ্ধতা ছড়িয়েছে যে, তার মধ্যে ক্যারিবিয়ান সাবেকরা দেখতে পাচ্ছেন ভবিষ্যত্ নেতৃত্বের প্রতিচ্ছবি। বার্বাডোজের কোচ ও সাবেক কিংবদন্তী ওপেনার ডেসমন্ড হেইন্স বলেন, ‘ও মাঠের মধ্যে অনেক কিছু করার চেষ্টা করে। ওর মধ্যে দলকে নেতৃত্ব দেয়ার সব রকম গুণাবলী আছে। আশা করি একদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজকেও ও এভাবে নেতৃত্ব দেবে। এবার বার্বাডোজ দলটা যে এতোটা ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে এর কৃতিত্বের অনেকটাই পোলার্ডের প্রাপ্য।’ তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে তার থেকে এবার একটু বেশিই প্রত্যাশা করবে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানরা। সেটা অবশ্যই তার সামপ্রতিক পারফরম্যান্সের জন্য। ওয়ানডের পর সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও দলে আছেন তিনি। তবে, একটা ব্যাপারে পোলার্ডকে নিয়ে দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত নয়টি ম্যাচ খেলে পোলার্ড জ্বলে উঠতে পেরেছেন মাত্র একটি ম্যাচে। ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দু’বছর আগের সেই ম্যাচে করা ৭৪ বলে ৮৫ রান বাদ দিলে মুশফিকদের বিপক্ষে তার বলার মত কোন সুখ-স্মৃতি নেই। সব মিলিয়ে ২৪.১৪ গড়ে করেছেন ১৬৯ রান। সে যাই হোক না কেন, পোলার্ড ক্রিকেট ব্যাট হাতে কেমন করার সামর্থ্য রাখেন সেটা কারোই অজানা নয়। আর দেশের মাটিতে খেলা বলে কন্ডিশনটাও খেলবে তার হয়ে। সব মিলিয়ে তাই বাংলাদেশ দলকে তাকে অবশ্যই সমীহের চোখেই দেখবে। এবারের সিপিএল শুরু হবার পরপরই পোলার্ডের টিএনটি ছেড়ে বার্বাডোজে আশা নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয়েছিল। এসেই সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলেন, ‘এখানে আমি বড় একটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই এসেছি। আমার মূল লক্ষ্য সমর্থকদের মন জয় করা।’ শিরোপা দিয়েই শেষমেষ বার্বাডিয়ানদের মন জয় করেছেন পোলার্ড। এবার গোটা ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মন জয়ের পালা। মুশফিকরা নিশ্চয়ই এর বিপরীতটাই চাইবেন!