একসময় ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতো শতাধিক মানুষ। আগের মত জলাশয় না থাকায় মাছ শিকারীদের এখন তেমন একটা দৌড়-ঝাঁপ লক্ষ্য করা যায় না। সেইসাথে বড় বড় লাল পিঁপড়া দিনে দিনে বিলুপ্তির পথে। ফলে আগের মত পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করতে না পেরে বেকায়দায় পড়েছে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রকারীরা।
একসময় মাছ শিকারীদের অন্যতম পছন্দ ছিল লাল বড় পিঁপড়ার ডিম। পিঁপড়ার ডিম শিকারীরা মাছের টোপ হিসাবে ব্যবহার করতো। স্থানীয়ভাবে এ পিঁপড়াকে বলে ‘মাইনজল’। আগের মত এখন আর জলাশয় নেই। নেই মাছ শিকারীদের দৌড়-ঝাঁপ। একসময় এ পিঁপড়ার বাসা চোখে পড়তো হামেশা। এখন আগের মত পিঁপড়ার বাসা চোখে পড়ে না। সাধারণত বড় আকৃতির এ লাল পিঁপড়া বাসা বাঁধতো বড় বড় গাছের পাতায়। শিকারীরা পিঁপড়ার কামড় খেয়ে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে থাকে। পিঁপড়ার ডিম শিকারী শিবরামপুর গ্রামের শাহজাহান জানান, একসময় পিঁপড়ার ডিম সারাদিন সংগ্রহ করে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা বিক্রি করা যেত। এখন সারাদিন পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা বিক্রি করা হয়। তিনি ২০ বছর ধরে বর্ষাকালীন সময়ে পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করে আসছেন।
মাছ শিকারী আছিমের নজরুল মাস্টার জানান, পিঁপড়ার ডিম টোপ হিসাবে ব্যবহার করলে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। পিঁপড়ার ডিম মাছের খুব পছন্দের খাবার। একসময় প্রতিদিন সকালে বাজারে বাজারে পিঁপড়ার ডিম সহজেই কেনা যেত। এখন আর আগের মত পাওয়া যায় না।
