ফেলানী হত্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনার আশ্বাস

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৪, ২৩:০৪
ফেলানী হত্যা মামলা রায় বিএসএফের পুনঃবিচেনার আশ্বাসে নতুন করে ন্যায়বিচার পাওয়ার স্বপ্ন দেখছে তার পরিবার। কয়েকদিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন করবেন বলে জানিয়েছেন নিহতের বাবা। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর অনন্তপুর সীমান্তে ৯৪৭নং আন্তর্জাতিক পিলার ৩নং সাব-পিলারের পাশ দিয়ে ভারতের কাঁটাতার ডিঙ্গিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় টহলরত বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হয় ফেলানী। ৮ জানুয়ারি লাশ হস্তান্তর করলে ৯ জানুয়ারি ময়না তদন্ত শেষে গ্রামের বাড়ি নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রামখানা কলোনীটারীতে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। পরে ভারত সরকার ফেলানী হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করে। ২ বছর ৮ মাস ২৬ দিন পর গত বছরের ১৩ আগস্ট ভারতের কুচবিহার জেলার বিএসএফের ১৮১ সদর দপ্তরে স্থাপিত জেনারেল সিকিউরিটি ফোর্সেস কোর্টে এর বিচারকাজ শুরু হয়। সাক্ষী দিতে এদেশ থেকে ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম, মামা আবু হানিফ ১৮ আগস্ট ভারতের কুচবিহারে যান। ১৯ আগস্ট তারা সাক্ষী দেন। সঙ্গে যান কুড়িগ্রাম জজকোর্ট সরকারি কৌঁসুলি আব্রাহাম লিংকন ও ৪৫ বিজিবি ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার লে.কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ। আসাম ফ্রন্টিয়ারের ডিআইজি (কমিউনিকেশন্স) সিপি ত্রিবেদীর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বিচারক বেঞ্চ কঠোর গোপনীয়তায় এ বিচার পরিচালনা শেষে ৫ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত চৌধুরীহাট ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে নির্দোষ ঘোষণা করে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। যদিও অমিয় ঘোষ তার অস্ত্র থেকে গুলি বের হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। রায় প্রত্যাখ্যান করে ১১ সেপ্টেম্বর ফেলানীর বাবা ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারকে ন্যায়বিচারের আশায় পত্র দেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রমতে, বিএসএফের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার বিজিবিকে মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, এক মাসের মধ্যে ফেলানী হত্যা মামলার রায় পুনঃবিবেচনার কথা জানতে পেয়ে রিভিউ পিটিশন দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফেলানীর পরিবার। ৪৫ বিজিবি ব্যাটেলিয়ন কমান্ডার লে.কর্নেল মোফাজ্জল হোসেন আকন্দ জানান এ ব্যাপারে মৌখিকভাবে জেনেছি। চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে দিল্লিতে বিজিবি মহাপরিচালক ও বিএসএফ প্রধানের বৈঠকে ফেলানী হত্যা মামলার বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।