ভেজাল প্যারাসিটামল খেয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘বিসিআই বাংলাদেশ লিমিটেড’ এর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের তত্কালীন পরিদর্শক বর্তমানে পরিচালক আবুল খায়ের চৌধুরী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গতকাল সোমবার ঢাকার ড্রাগ আদালতে হাজির হয়ে তিনি সাক্ষ্য দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মো. আবদুর রশিদ বাদীর আংশিক সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। অবশিষ্ট সাক্ষ্যের জন্য আগামী ২৮ আগস্ট দিন ধার্য করেন।
এর আগে দীর্ঘদিন আদালতে সাক্ষ্য দিতে না আসায় গত ৭ আগস্ট বাদীকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১০ আগস্ট তাকে জামিনও দেন আদালত।
১৯৯৪ সালের ২ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৮২ সালের ওষুধ নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৬সি ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচারকের ওই আদেশের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের আদেশে বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকে। ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল স্থগিতাদেশ বাতিল করে হাইকোর্টে মামলা চলবে বলে নির্দেশ দেয়ার পর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ধার্য হয়। কিন্তু বাদী ও অন্য সাক্ষীরা আদালতে হাজির না হওয়ায় বিচারকাজ ঝুলে যায়। মামলার বিবরণে জানা যায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির তৈরি প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে আড়াই হাজারেরও বেশি শিশু মারা যায়। বিসিআই বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল্স লিমিটেডের তৈরি প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়েও অনেক শিশু মারা যায়। ১৯৯২ সালের ৩ ডিসেম্বর ঔষধ প্রশাসন পরিদপ্তরের তত্কালীন সুপারিনটেনডেন্ট আবুল খায়ের চৌধুরী বাদী হয়ে এ আদালতে দুটি মামলা করেন। দুটি মামলায় আসামি করা হয় বিসিআই বাংলাদেশের পরিচালক মো. শাহজাহান সরকার, পরিচালক শামসুল হক, পরিচালক নুরুন নাহার, উত্পাদক ব্যবস্থাপক এম তাজুল হক, মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপক আয়েশা খাতুন ও নির্বাহী পরিচালক এ এস এম বদরুদ্দোজা। আসামিদের মধ্যে মো. শাহজাহান সরকার মামলায় জামিনে আছেন। অন্যরা শুরু থেকে পলাতক।
গত ২২ জুলাই অন্য একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডফ্লেইম ফার্মাসিউটিক্যালসের তিন কর্মকর্তাকে ভেজাল প্যারাসিটামল উত্পাদনের দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন এ আদালত।
