একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতেই সংবিধানে ষোড়শ সংশোধনী এনে বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করতে চাচ্ছে। সরকারের এই ধরনের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘সংবিধান (ষোড়শ সংশোধন) আইন, ২০১৪’-এর খসড়ায় ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়ার পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি আন্দোলনের এই হুঁশিয়ারি দেন। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে গতকাল জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর ফখরুল সাংবাদিকদের কাছে এই প্রতিক্রিয়া জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সমপ্রচার নীতিমালা করেছে। বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেয়া হলে বিচারবিভাগের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না।
‘বিএনপি জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয় না’
‘চারদলীয় জোট সরকারের আমলে সারাদেশে একযোগে বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে খালেদা জিয়ার মদদ ছিল’- রবিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দেয়া এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, বারবার তারা জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে চলেছে। বিএনপি জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় দেয় না।’
মির্জা ফখরুল পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, বরং আওয়ামী লীগই জঙ্গিবাদের প্রশ্রয়দাতা। কারণ তাদের আমলেই এদেশে প্রথম জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে।
‘ভারপ্রাপ্ত নিয়ে সমস্যা নেই’
এদিকে, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পদে দীর্ঘদিন থাকার পরেও মির্জা ফখরুলকে ভারমুক্ত না করার বিষয়ে সৈয়দ আশরাফের বক্তব্যের জবাবও দেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘এটা সৈয়দ আশরাফ সাহেবের অনধিকার চর্চা। আমাদের দলের নিয়ম অনুযায়ী মহাসচিব নিয়োগের বিষয়টি দলের কাউন্সিলে নির্ধারণ হয়ে থাকে। এ নিয়ে আমাদের দলে কোনো সমস্যাও নেই।’
জিয়ার কবরে দু’গ্রুপের হাতাহাতি
মির্জা ফখরুলকে সঙ্গে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীরা সংগঠনের সভাপতি হাবিব-উন নবী খান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক মীর শরফত আলী সফুর নেতৃত্বে জিয়ার কবরে ফুল দিতে যান। ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর বের হওয়ার সময় বিজয় সরণীর দিকের সড়ক সংলগ্ন চন্দ্রিমা উদ্যান গেইটে ব্যানার লাগানোকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগরীর উত্তর ও দক্ষিণের দু’অংশের কর্মীরা। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি হলে কয়েকজন সামান্য আহতও হন। পরে সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
