প্রিয় একাদশ শ্রেণির ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ, ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়টিও সৃজনশীল পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমপত্র ব্যবসায় পরিচিতি, দ্বিতীয়পত্র ব্যবস্থাপনা। ব্যবসায় বিভাগের এই আবশ্যিক বিষয় সম্পর্কে তোমাদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
সৃজনশীল পদ্ধতি : সৃজনশীল
পদ্ধতি একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি। যুক্তি,তর্কনির্ভর পদ্ধতি। তবু এই পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা পেতে হলে নিয়মিত ক্লাস করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়া দরকার। প্রথমপত্র ব্যবসায় পরিচিতিতে মোট ১২টি অধ্যায় রয়েছে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে সৃজনশীল অংশে মোট ৯টি উদ্দীপক থাকবে। অর্থাত্ ১২টি অধ্যায় মিলে মোট ৯টি উদ্দীপক তৈরী করা হবে। ৬টি উদ্দীপকের উত্তর দিতে হবে। অর্থাত্ একাধিক অধ্যায় মিলে একটি উদ্দীপক হতে পারে। তবে পাঠ্য বইতে উল্লেখিত উদ্দীপক,বিভিন্ন গাইড বইতে উল্লেখিত উদ্দীপক, শ্রেণিকক্ষে শ্রেণি শিক্ষকের তৈরীকৃত উদ্দীপক কোনটাই ফাইনাল পরীক্ষায় হুবহু কমন পড়ার সম্ভাবনা নাই। তাই নির্দিষ্ট কিছু উদ্দীপকের উপর নির্ভর না হয়ে প্রথমত মূল পদ্ধতি সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিয়ে হবে। তবেই যেভাবেই উদ্দীপক তৈরী করা হোক না কেন উত্তর বের করা সহজ হয়ে যাবে। তাই সৃজনশীল পদ্ধতিতে ৪টি স্তর জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা সত্মর সম্পর্কে প্রথমে ধারণা নিয়ে হবে। উদ্দীপকের প্রথম স্তর অর্থাত্ জ্ঞানমূলক স্তরে সাধারণত কে,কি কোথায়, কখন ইত্যাদি দিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এই সব প্রশ্নের স্মরণ থেকে সরাসরি সংক্ষেপে এক কথায় উত্তর দিতে হয়। কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের প্রয়োজন হয় না। অর্থাত্ কমা, কোলন,সেমিকোলন প্রয়োজনবোধে ব্যবহার করা গেলেও দাড়ি একবার ব্যবহার করতে হবে। মানে এক বাক্যে উত্তর শেষ করতে হবে। উদ্দীপকের দ্বিতীয় স্তর অর্থাত্ অনুধাবন স্তরে প্রশ্নে উল্লেখিত বিষয়টি সম্পর্কে কি অনুধাবন করতে পেরেছ বা বুঝতে পেরেছে তার উত্তর দিতে হবে। মানে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করতে হয়। তবে এই অনুধাবনের ভিতর জ্ঞানমূলক বিষয়টিও জড়িত। মানে অনুধাবন স্তরের উত্তর লিখতে হলে জ্ঞানমূলক চিন্তা করে জ্ঞানমূলকের উত্তর দিয়ে এর পরে ব্যখ্যা বিশ্লেষণ করতে হবে। মানে অনুধাবন স্তরের প্রশ্নটির উত্তর ২টি প্যারায় সম্পূর্ণ করতে হবে। উদ্দীপকের ৪টি স্তরের প্রশ্নকে আবার ২টি ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো সরাসরি প্রশ্ন সম্পর্কিত আরেকটি হলো উদ্দীপক নির্ভর বা ঘটনা বা দৃশ্যকল্প নির্ভর।
জ্ঞান ও অনুধাবন স্তরের প্রশ্ন পাঠ্যবই নির্ভর এবং প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নটি উদ্দীপক নির্ভর। মানে গ ও ঘ নং স্তরের প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে উদ্দীপকটি পড়তে হবে, উদ্দীপকের ঘটনার মর্মার্থ বুঝতে হবে। প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা স্তরে জ্ঞানমূলক অংশ কি তা বের করতে হবে। তবে যে যেভাবেই বুঝার চেষ্টা করুক না কেন প্রয়োগ ও উচ্চতর দক্ষতা স্তরের জ্ঞানমূলক উত্তর একই হবে। জ্ঞানমূলক উত্তরের পরের অংশগুলোর ব্যখ্যা বিশ্লেষণ একেক শিক্ষার্থীর একেক রকম হতে পারে। তাই উদ্দীপক তৈরী করার সময় এই বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়। যাতে জ্ঞানমূলক উত্তরের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তাই প্রয়োগ স্তরের জ্ঞানমূলক প্রশ্নের ন্যায় উদ্দীপক সম্পর্কিত কোনটি,কোনটির সাহায্যে,কোন দিকের প্রতি,কোন বিষয়বস্তু,কার,কোন কারণ ইত্যাদি অনুধাবন আকৃতির প্রশ্ন করা হয়। তাই এই প্রশ্নের সরাসরি একটি উত্তর আসবে তা হবে জ্ঞানমূলক উত্তর। তবে উদ্দীপক পড়ে নির্ণয় করতে হবে। পরবর্তীতে এই জ্ঞানমূলকের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ দিতে হবে। শেষটি কিভাবে জ্ঞানমূলক উত্তর পাওয়া গেল তার প্রয়োগ দেখাতে হবে। এভাবে এই অংশে তিনটি প্যারায় উত্তর শেষ করতে হবে।
উচ্চতর দক্ষতা স্তর উদ্দীপক নির্ভর প্রশ্নে শেষ অংশ। এই স্তরে সরাসরি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন চাওয়া হয় না। তবে শিক্ষার্থীর কাজ হলো জ্ঞানমূলক প্রশ্ন সম্পর্কে আগে নিশ্চিত হওয়া। মানে উচ্চতর দক্ষতা স্তরের প্রশ্নে সাধারণত ব্যাখ্যা কর, মূল্যায়ন কর,তুলনা কর,উপযোগিতা বের কর,পার্থক্য তুলে ধর, হ্যাঁ কিংবা না এই জাতীয় প্রশ্ন হয়ে থাকে। তাই এর ভিতর হতে জ্ঞানমূলক উত্তর খুঁজে নিতে হয়। যার ইঙ্গিত উদ্দীপকে উল্লেখ থাকে। এর পর খুঁজে পাওয়া জ্ঞানমূলকের বিশ্লেষণ দিতে হয়। এরপর এর প্রয়োগ দেখাতে হবে। তবে এখানে বিশ্লেষণ সংশ্লেষণ ও মূল্যায়ন এই তিনটি বিষয় থাকবে। চতুর্থ প্যারায় এর সংশ্লেষণ ও মূল্যায়ন দেখাতে হবে। সংশ্লেষণ হলো নতুন পরিস্থিতিতে তথ্য বা উপাদান একত্রিত করে নতুন কিছু সৃষ্টি করা। সাথে পুরো উদ্দীপকের ঘটনার মূল্যায়ন থাকবে। মানে একটু মতামত থাকতে হবে। মানে ৪টি প্যারায় এই অংশটি শেষ হবে। এখানে ১০ নম্বরের উদ্দীপক ১০ টি প্যারায় প্রায় ৩৬ লাইনের ভিতর শেষ করা যাবে।
