দেখে এলাম লালকেল্লা ও ময়ূরসিংহাসন

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ১৯:২০
জেট এয়ারওয়েজ বিমানটি দিল্লীর উদ্দেশ্যে আকাশ পথে যাত্রা শুরু করলো। আমার সঙ্গে ছিলেন মা, বাবা এবং বড় মামা ও বড় মামী। প্রায় বাইশ হাজার ফিট উপর দিয়ে যাচ্ছে আমাদের বিমানটি। অনন্ত আকাশ দূরে বিশাল হিমালয় পর্বত। একেবারে অজানা অচেনা অনুভূতি। নতুন এ পথে বেশ ভালো লাগছিল। দীর্ঘ দুই ঘন্টা ত্রিশ মিনিট পর বিমানটি অবতীর্ণ হলো দিল্লী এয়ারপোর্টে। শীঘ্রই পৌঁছে গেলাম বিশ্বের মধ্যে বিশাল আলোকিত জুম্মা মসজিদটির সামনে। বহু জায়গায় উল্লেখ আছে বিখ্যাত এই জুম্মা মসজিদটির নাম। মসজিদটির একেবারে সামনে দাঁড়িয়ে আমি। প্রধান প্রবেশ পথ দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করেই যেটা চোখে পড়লো তা হলো অনেক-অনেক কবুতর। পুরো মসজিদটা জুড়ে যেন কবুতরের মেলা। সব কিছুই যেন স্বপ্নের মত লাগছিল। অনিন্দ্য সুন্দর এক খোদার ঘর। এখানে প্রায় ২৫ হাজার লোক একসঙ্গে নামাজ পড়ে। বিশাল এই মসজিদটি লাল পাথর এবং সাদা মার্বেল পাথরের দ্বারা তৈরি। প্রায় দুই ঘন্টা সময় ধরে আমরা এই মসজিদটি দেখছিলাম। পরের দিন সকালের নাস্তা সেখানেই সেরে সবাই বেড়িয়ে পড়লাম সম্রাট শাহজাহানের ঐতিহাসিক মোগল স্থাপত্য ও নির্মাণ শৈলীতে নির্মিত লাল কেল্লা দেখার উদ্দেশ্যে। মা-বাবা, মামা-মামীর সাথে লাল কেল্লার ভেতরে প্রবেশ করেই বহু প্রতীক্ষিত সেই বিখ্যাত ময়ূর সিংহাসনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। সম্রাট শাহজাহানের সিংহাসনটি ছিল পুরো ময়ূর আকৃতিতে গড়া সোনা ও বিভিন্ন মূল্যবান পাথরের দ্বারা তৈরি। ময়ূর আকৃতিতে গড়ার কারণেই সম্ভবত এটার নামকরণ করা হয়েছিল ময়ূর সিংহাসন। কালের বিবর্তনে ও ঘটনাচক্রে সেই স্বর্ণের সিংহাসনটি না থাকলেও সেই স্থানটি এখনো আছে। যেখানেই ছিল সিংহাসনটি সেখানে বসেই একসময় সম্রাট শাহজাহান পুরো রাজ্য পরিচালনা করতেন। অনেকটা বিস্ময়ের চোখে সেই জায়গাটিকে দেখে আমি মুগ্ধ এবং অভিভূত। লাল কেল্লার পুরো জায়গাটি জুড়ে রয়েছে বিভিন্ন বিশাল বিশাল ভবন যার রয়েছে আলাদা আলাদা নামকরণ যেমন— “মতি মসজিদ” “মমতাজ মহল”। রাণীদের আলাদা থাকার জায়গাসহ বিভিন্ন বিশাল কক্ষ যা সম্রাট শাহজাহানের প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা আলাদা করে নির্মিত। মতি মসজিদ এবং মমতাজ মহলের ঠিক মাঝখানের জায়গাটিতে রয়েছে বিশাল একটি বাগান। যে বাগানটি সম্রাটের লাল কেল্লাকে আরো সুশোভিত করেছে। মমতাজ মহলের ভেতরে এখনো মোগল আমলের অনেক নিদর্শন রয়েছে। যা মোগল বংশের প্রতিচ্ছবি স্বরূপ। আড়াই কিলোমিটার ব্যাপ্ত এই লাল কেল্লা ঘুরে দেখতে আমাদের প্রয় চার ঘন্টা সময় লেগে গেছে। এতো অল্পবয়সে বিশাল এই কেল্লাটি ঘুরে দেখে আমি অর্জন করেছি অনেক অজানা অনুভূতি। যার পুরোটা প্রকাশ করা আজ আমার পক্ষে অসাধ্য ব্যাপার। ফিরে এলাম আবার হোটেল তারা প্যালেসে। দুপুরের খাবার খেয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম। এরপর আমরা আরও চারদিন দিল্লীতে ছিলাম এবং অপরূপ কিছু জায়গা যেমন-কুতুব মিনার, আলাই মিনার, পুরান কেল্লা, নয়াদিল্লীর অনেক জায়গা দেখে অজানা অনেক অভিজ্ঞতাই অর্জন করেছি। অবশেষে আমাদের ফেরার পালা। হোটেল তারা প্যালেস থেকে একটু সময় হাতে নিয়েই মাইক্রোযোগে আমরা পৌঁছে গেলাম ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে (দিল্লী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে)। বিমান বন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম। সময় হাতে থাকার কারণেই বিমান বন্দরের অনেক জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে আমার। সময় অনুযায়ী Jet Airways বিমানে উঠে পড়লাম বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে। এবার সময়টা একটু কমই লেগেছিল ঘন্টা দুয়েকের মধ্যে আমরা শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে গেলাম। এত অপূর্ব দেশ থেকে ঘুরে এসেও কেন জানি শান্তি পাচ্ছিলাম না। সব কিছুর মাঝেও দিল্লীতে যে এক অজানা অতৃপ্তি ছিলো তা যেন নিজের দেশে এসে বুঝলাম কোত্থেকে যেন এক আত্মতৃপ্তির নীরব শান্তি আমি বাংলাদেশে এসে খুঁজে পেয়েছি। হয়ত এরই নাম মা, মাটির টান আর দেশের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা।