মুক্তাগাছায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারি বাগান দারিদ্র্য বিমোচন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।
নব্বই এর দশক থেকে অত্রাঞ্চলে নার্সারি বাগান ব্যবসা জনপ্রিয়তা লাভ করতে শুরু করে। এখানকার নার্সারিতে উত্পাদিত বৃক্ষ চারার গুণগতমান অধিক উন্নত হওয়ায় নার্সারি ব্যবসা ক্রমশ:প্রসার লাভ করতে থাকে। স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, অত্রাঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া নার্সারি চারা উত্পাদনের উপযোগী ।
উপজেলা নার্সারি স্যানিটেশন সমিতি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে মুক্তাগাছায় ১০ টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় ছোট- বড় ৫ শতাধিক নার্সারি বাগান রয়েছে। এখানে ১২ সহস্রাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্ত নার্সারি বাগানে বনজ, ফলদ, ভেষজ ও ফুল জাতীয় বৃক্ষের চারা উত্পাদন করা হয়। প্রায় সব নার্সারিতেই ভালো জাতের মাতৃবৃক্ষ থেকে কলম করে নতুন বৃক্ষ তৈরি করা হয়।
বৃহত্তর ঢাকা, সিলেট, খুলনা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে এখানের উত্পাদিত চারা কিনে নিয়ে যান। প্রায় প্রতিদিন ৭/৮টি ট্রাক, ১০/১৫টি পিকআপ ভ্যান এবং শ’ শ’ রিকশা ও ভ্যান রিকশায় বৃক্ষ চারা চালান দেয়া দেয়। এছাড়া কালিবাড়ি, গাবতলী, নতুনবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে স্থানীয়ভাবেও প্রচুর বৃক্ষ চারা বিক্রি হয় ।
কাশিমপুর গ্রামের শহীদুল্লা জানান, আগে তিনি রিকশা চালিয়ে অতিকষ্টে সংসার চালাতেন। বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত ৭ কাঠা জমি ভাড়া নিয়ে নার্সারি বাগান প্রতিষ্ঠা করেন। গত ১২ বছরে কমপক্ষে ২০ লাখ টাকা আয় করেছেন। আয়ের টাকায় নিজেই জায়গা জমি কিনে নার্সারি বাগান প্রতিষ্ঠা করেছেন ।
নার্সারি বাগান মালিকরা জানান, এক বছর বয়সী বনজ একটি বৃক্ষ চারা উত্পাদনে ৩/৪ টাকা, ফল জাতীয় চারা ৬/৭ টাকা, ভেষজ ৮/১০ টাকা এবং ফুল জাতীয় চারার জন্য ২০/৩০ টাকা খরচ হয়। খরচ বাদে চারা প্রতি ৪/৫ টাকা থেকে ৩০/৪০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয় ।
