সমৃদ্ধির সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ, কিন্তু দেশের মানুষ তা জানে না

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৯
বাংলাদেশের পোশাক খাতে জিএসপি সুবিধা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের আদমজী ইপিজেডে ‘নেটকো’ গার্মেন্টস কারখানা পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বেপজার জিএম মেহেবুব আলী, কারখানার এমডি মো. রাসেল ও ডিজিএম আতিকুর রহমান। বাংলাদেশ ও আমেরিকার যৌথ উদ্যোগে নেটকো পরিচালিত হচ্ছে। রাষ্ট্রদূত মজিনা বলেন, পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিপ্লবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। পোশাক খাতকে একটি মানচিত্রে রূপান্তরিত করতে হবে। এ খাতের উন্নয়নে একটি মানচিত্র তৈরি করতেই জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। আমরা চাই না রানা প্লাজা ধস, তাজরিনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ক্রেতা-বিক্রেতা, বিশেষ করে বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করলে পোশাক খাতকে রূপান্তরিত করা সম্ভব। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের উপযুক্ত। কারণ এ দেশে সম্পদ রয়েছে। দেশের মানুষ কর্মঠ, পরিশ্রমী, সাহসী। খনিজসম্পদ, গ্যাসে এ দেশ সমৃদ্ধশালী। ২০১৫-১৬ সালে বাংলাদেশে সাড়ে ৭৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করবে আমেরিকা। এভাবেই এশিয়ার বাঘে পরিণত হবে বাংলাদেশ। আমি আমেরিকায় বাংলাদেশি প্রবাসীদের এ দেশে বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছি। প্রবাসী বাংলাদেশিরা কম সুদে এ দেশে বিনিয়োগ করতে পারবেন। আমি যখনই আমেরিকাতে যাই তখনই সেখানকার বাংলাদেশিদের সঙ্গে আলোচনা করে এদেশের যুবসমাজকে কাজে লাগানোর কথা বলি। তাদেরকে এ দেশে বিনিয়োগের জন্য উত্সাহ দেই। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দিন দিন পোশাক খাতে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হতে চলেছে। আমরাও চাই দ্রুত এ দেশ আরো উন্নত হোক। বিশ্বের এক নাম্বার ব্র্যান্ড হোক বাংলাদেশ। বাংলাদেশের খনিজসম্পদ কয়লা, পাটে বেশ সমৃদ্ধশালী। এ দেশের পাট গবেষণা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শুধু পাট ব্যবহার করে এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। আমি ইতিমধ্যে এ দেশের ৬১ জেলা ঘুরেছি। বাংলাদেশ অনেক সমৃদ্ধশালী, কিন্তু দেশের মানুষই বিষয়টি জানে না। আমি বাংলাদেশ ঘুরে বিস্মিত। ফরিদপুরে আমি এত পাট দেখেছি যা জীবনে কখনো দেখিনি। পাট দিয়ে এখন বাড়িও বানানো সম্ভব। ইতিমধ্যে পাটের জিন আবিষ্কার করা হয়েছে, যা একটি সাফল্য। আইইউবিতে মার্কিন শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে মজীনা ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের (আইইউবি) বাংলা ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্সটিটিউটের উদ্যোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ক্রিটিক্যাল ল্যাঙ্গুয়েজ স্কলারশিপ’ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী বিদেশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ট্যালেন্ট শো শীর্ষক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সোমবার আইইউবির বসুন্ধরা ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ১৩ জন মার্কিন শিক্ষার্থী নয় সপ্তাহের এই কোর্সে অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা এবং কোরীয় রাষ্ট্রদূত লি ইয়াং ইয়াং উপস্থিত ছিলেন। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইইউবি’র বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি রাশেদ চৌধুরী এবং উপাচার্য অধ্যাপক এম ওমর রহমান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের সদ্যলেখা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে বাংলা ভাষায় কবিতা, গান, নাচ ও অভিনয় প্রদর্শন করেন।