দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল বিঘ্নিত, ট্রাকের দীর্ঘ লাইন

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৯
ঘন ঘন ফেরি বিকল হওয়া, নদীতে প্রবল স্রোত ও ডুবোচরের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে মালামাল বোঝাই অনেক ট্রাক আটকে পড়ে আছে দৌলতদিয়া ঘাটে। বিআইডব্লি¬উটিসি দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের ব্যস্ততম এই নৌপথে চলাচলকারী ফেরিগুলো অনেক বছরের পুরনো। ফেরির সংখ্যা কম হওয়ায় এগুলোকে সবসময় সচল রাখতে গিয়ে ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ছে। গত শনিবার সকালে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও দুপুরে শাহ পরান ফেরিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তা বিকল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কাবেরী ও কপোতী নামের দুটি কে-টাইপ ফেরি গত ছয় দিন ধরে বিকল হয়ে আছে। পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে বিকল ওই ফেরিগুলোর মেরামতের কাজ চলছে। এদিকে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়ায় ফেরি শাহ মখদুমকে মেরামতের জন্য নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন কোন না কোন ফেরি বিকল হওয়ার ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে ফেরির সংকট সহসা কাটছে না। গত বৃহস্পতিবার সকালে চুয়াডাঙ্গা থেকে কাঠবোঝাই ট্রাক নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা হন রাজধানীর মীরপুরের ট্রাক চালক রশিদ শেখ। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত তার ট্রাক ফেরির নাগাল পায়নি। বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ম্যানেজার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরি সংকটের পাশাপাশি এই নৌ চ্যানেলে অসংখ্য ডুবোচর সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক ফেরি প্রায়ই ডুবোচরে আটকা পড়ছে। গত শনিবার বিকালে ৯টি বাস, একটি ট্রাক ও ১০টি ছোটগাড়িসহ কয়েক শ’ যাত্রীবোঝাই ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর দৌলতদিয়া চ্যানেলে ডুবোচরে আটকে যায়। টানা দেড় ঘণ্টা আটকে থাকার পর আইটি-৩৮৯ জাহাজ এসে ফেরিটিকে উদ্ধার করে। নদীতে প্রবল স্রোত বইতে থাকায় চলাচলকারী ফেরিগুলো এখন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না বলেও তিনি জানান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেরি স্বল্পতার পাশাপাশি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করায় গত কয়েক দিন যাবত্ দৌলতদিয়া ঘাটে কয়েক শ’ ট্রাক আটকা পড়ে আছে। বিআইডব্লি¬উটিসির এজিএম মো. জিল্লুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিকল ফেরিগুলোর দ্রুত মেরামত কাজ চলছে। ফেরিগুলো নৌরুটে ফিরে এলে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’