নিখোঁজের নেপথ্য কাহিনী জানতে চায় সিলেটবাসী

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৯
নিখোঁজের প্রায় সাড়ে তিন মাস পর উদ্ধার হওয়া সুনামগঞ্জের বহুল আলোচিত যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা মুজিবুর রহমান মুজিবকে নিয়ে সুনামগঞ্জ তথা সিলেটে নানা জল্পনা চলছে। অনেকেই জানতে চান মুজিব নিখোঁজের নেপথ্যে কি রহস্য রয়েছে। সত্যিই কি মুজিব কারো দ্বারা অপহূত হয়েছিলেন? কারা, কেন তাকে ও তার ড্রাইভারকে অপহরণ করেছিল? আবার কিসের বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়? নাকি ধনাঢ্য এই প্রবাসী নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন?—এ রকম নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে সিলেটবাসীর মনে। তবে, যেভাবেই হউক একজন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পেয়ে অনেকেই শুকরিয়া আদায় করেছেন। পুলিশ সূত্র জানায়, শিগগিরই মুজিবকে সুনামগঞ্জে আনা হবে এবং তখন পুরো বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। মুজিব বর্তমানে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন। গতকাল সন্ধ্যায় মুজিবের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র ইত্তেফাককে জানান, শীর্ণ দেহে মুজিব এখন হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন। অন্য একটি সূত্র জানায়, গুলশান জোনের একজন সহকারী কমিশনারের নেতৃত্বে বেশ কিছু সাদা পোশাকের পুলিশ ইউনাইটেড হাসপাতালে মুজিবের সাথে কথা বলেছেন। মুজিব উদ্ধার হওয়ার পর সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হেমায়েতুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঢাকায় গেছেন। এদিকে মুজিবের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ড্রাইভার রেজাউল করিম সোহেল (৩২) গত সোমবার ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে গতকাল মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তার সুনামগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছাননি বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুনূর রশিদ। সোহেলের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরা কোন যোগাযোগও করতে পারছে না। তাহলে কি সোহেল আবার নিখোঁজ হয়েছেন?— এ রকম প্রশ্ন ও সন্দেহ জোরালো হয়েছে তার পরিবারের সদস্যদের মনে। সোহেলের বাবা আব্দুল ওয়াহিদ গতকাল রাতে বলেছেন, ‘ছেলের খোঁজ পেয়ে আনন্দিত হয়েছিলাম। কিন্তু এখন নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’ উল্লেখ্য, গত ৪ মে যুক্তরাজ্য বিএনপির উপদেষ্টা কমিটি ও সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুজিবুর রহমান মুজিব ও তার গাড়ি চালক সোহেল সুনামগঞ্জে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ শেষে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক থেকে নিখোঁজ হন। গত সোমবার হঠাত্ করেই ঢাকার টঙ্গী সেতুর কাছে তাদের পাওয়া যায়। কে বা কারা তাদের বোরকা পরিয়ে, চোখ-মুখ বেঁধে গাজীপুরের টঙ্গী সেতুর কাছে রেখে যায়। তবে মুজিবের ব্যবহূত প্রাইভেট কারের এখনো সন্ধান মেলেনি। মুজিব নিখোঁজ রহস্য সম্পর্কে তার শ্যালক ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে অস্ত্র ও গুলির ভয় দেখিয়ে এবং স্প্রে মেরে শহরতলীর টুকেরবাজার থেকে তাদের ধরে নেয়া হয়। প্রসঙ্গত, মুজিব নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি জিডি করা হয়। পরে এটিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে পুলিশ।