আলোচনা সভায় বক্তারা
পিনাক-৬ উদ্ধারে গাফিলতির অভিযোগ
প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে মনিটরিং সেল কামনা
পিনাক-৬ লঞ্চ উদ্ধার ও অনুসন্ধান তত্পরতা সরকার ইচ্ছা করেই বন্ধ করে দিয়েছে। গরীব মানুষের লাশ তুলতে সরকারের কোন দায় নেই বলেই এই কাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আলোচকরা। চেষ্টা চালিয়ে গেলে লঞ্চটি উদ্ধার করা সম্ভব ছিল বলে মন্তব্য করেন তারা। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই অভিযোগ তোলা হয়।
আলোচনায় জাতীয় পানি সম্পদ পরিষদের বিশেষজ্ঞ সদস্য, নৌ-স্থপতি এবং পরামর্শক ড. আবদুর রহিম বলেন, শত শত নৌ-দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে হাজার হাজার প্রাণ। তদন্ত হয়েছে কিন্তু কোন ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি।
তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্টে লেখা থাকে ‘গোপনীয়’, তাই এটা থেকে কেউ কোন শিক্ষা নিতে পারে না, এমনকি প্রশাসনও নয়। যে দুই-একটি রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে সেখান থেকে শেখার কিছু নেই।
তিনি আরো বলেন, পিনাক-৬ অনুসন্ধানে যে আধুনিক প্রযুক্তি ও সরঞ্জামাদি ব্যবহার করা হয়েছে এগুলো পরিষ্কার পানির জন্য। পদ্মার মত নদীর ঘোলা জলে যে প্রযুক্তি দরকার সেগুলো আনা হয়নি। আর এভাবে অনুসন্ধান বন্ধ করাও ঠিক হয়নি।
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, নদী আর রেলপথ সবচেয়ে নিরাপদ এবং কম খরচের হলেও যুগ যুগ ধরে এই দুইটি চলাচল পথ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
আলোচনায় তিনি আরও বলেন, দেশে সহস্র খাতে বেহিসাবি খরচ হয়েছে কিন্তু নৌ আর সড়ক নিরাপত্তায় খরচের পরিমাণ অত্যন্ত কম।
নাগরিক ঐক্যের প্রধান মাহমুদুর রহমান মান্না পিনাক-৬ অনুসন্ধান ও উদ্ধার তত্পরতা বন্ধের সমালোচনা করে বলেন, মাত্র কয়েকদিনে অনুসন্ধান বন্ধ করে দেয়া সরকারের অবহেলার পরিচয় বহন করে।
সাবেক সংসদ সদস্য এম এম আকরাম বলেন, বড় বড় আমলা আর ভিআইপিদের গাড়ি রংপথে চলে। যে দেশে প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রদের বসার বেঞ্চ দিতে পারি না সেখানে মিগ আর সাবমেরিন কিনে কি লাভ।
বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাবুব আলম তালুকদার বলেন, নৌ ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে দরকার সচেতনতা ও নৈতিক দায়িত্ববোধ। বাস্তবতা হচ্ছে- এ ব্যাপারে অগ্রগতি নেই।
তিনি বলেন, টাকা দিয়ে দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ করা যায় না। দুর্ঘটনা রোধে সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন এবং তিনমাস পর পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে মনিটরিংয়ের উদ্যোগ নিতে হবে।
আলোচনায় পরিবহন শ্রমিক নেতা ইকবাল কবীর বলেন, পরিবহন শিল্প সংকটের মুলে পরিবহন শ্রমিক ও চালকদের জন্য সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন। দুর্ঘটনা রোধে দক্ষ চালক তৈরির জন্য বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সাংবাদিক গোলাম মর্তুজা বলেন, লঞ্চটি উদ্ধারে সরকার আন্তরিক হয়নি। গরীব মানুষের জীবনের মূল্য সরকারের কাছে কম। তাই এটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এডিবির পরামর্শে আমরা নৌ এবং রেলপথ ধ্বংস করেছি। যে কারণে এ সব চলাচল পথের নিরাপত্তায় উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
