তরিক সাহেব প্রায় বসের ধমক খাচ্ছেন। কোন ফাইল কোথায় রেখেছেন তা চট-জলদি মনে করতে পারছেন না। কয়েকদিন আগের কোনো নির্দেশও তিনি হরহামেশাই ভুলে যান।
এ জন্য তার চাকরি যায় যায় অবস্থা।
তাই সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার গড়তে, পদোন্নতি পেতে, বেতন বাড়াতে, সিনিয়রদের সুনজরে আসতে অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি স্মৃতিশক্তিকে শানিত করুন। বসের প্রিয়ভাজন হতে চাইলে বসের খুঁটিনাটি ভুলে যাওয়াগুলো মনে করিয়ে দিন। বস কখন কী চায়, সময়মত কাজটি করে দিন। তবেই আপনি হয়ে উঠবেন অফিসের গুরুত্বপূর্ণ একজন।
স্মরণশক্তি, স্মৃতিশক্তি বা Memory Power সকলের এক রকম হয় না। অনেক মানুষ আছে যারা সহজে অনেক অনেক তথ্য মনে রাখতে পারেন। আবার অনেকে সময় আমরা হরহামেশাই অনেক কিছু ভুলে যাই। শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ মনে করে তাদের সমস্যা আছে নাম মনে রাখার ব্যাপারে। আবার ৬০ ভাগ মানুষের হয়তো এমন সমস্যা হয় যা তারা কোনো নম্বর এবং স্থানের নাম দিব্যি ভুলে যায়। এটা সত্য যে ৩০ বছরের পর তা একেবারেই বিলুপ্ত হতে পারে।
গড়ে প্রতিটি মানুষ সপ্তাহে একাধারে কোনো নির্দিষ্ট কাজের কথা ভুলে যায়। আপনি যদি আপনার স্মৃতিশক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন, তবে তা ভালো লক্ষণ। আপনার যদি স্মরণশক্তির কোনো সমস্যা থেকে থাকে তবে তা হলো আপনার মনে আসে না বলেই মনে থাকে না। নিচে কয়েকটি টিপস দেয়া হলো যা আপনার স্মরণশক্তি বাড়াতে সাহায্য করবে।
১. উদ্বিগ্ন এবং দুশ্চিন্তা সাময়িকভাবে আপনার স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে ফেলতে পারে। এতে করে স্মৃতিশক্তি কমে যেতে পারে। চেষ্টা করুন শান্ত এবং স্থির থাকতে।
২. জীবনযাপনের পদ্ধতি পরিবর্তন এবং উন্নত করুন। কম ফ্যাটযুক্ত খাদ্য, ভালো অভ্যাস এবং ব্যায়াম আপনার স্মৃতিশক্তি অটুট রাখতে পারে।
৩. যা আপনি ভাবছেন বা ভাবেন তা রোমন্থন করার চেষ্টা করুন। চোখের সমস্যা থাকলে ডাক্তার দেখান।
৪. নিয়ম মেনে চলুন। জীবনের নিয়ম থাকা উচিত। প্রতিদিন সবকিছু নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন এবং মনে রাখুন কোথায় কী রাখছেন। কখনই অস্থির হবেন না। জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখবেন না বা ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন করবেন না।
৫. যখনই আপনি কোনোকিছুর নাম মনে করতে পারছেন না বা আপনার স্মৃতিতে কোনো কিছু ভেসে উঠছে না, তখন পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে মনে করার চেষ্টা করুন।
৬. রাতে ঘুমাবার আগে এক গ্লাস গরম দুধ খাওয়ার খাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে শরীর ও মন সতেজ থাকে।
৭. নিয়মিত সতেজ সবুজ শাক-সবজি ও সালাদ খাবেন। বেশি করে পানি পান করবেন। শরীরে কোনো ভিটামিনের অভাব থাকলে তা পূরণ করতে ভিটামিন গ্রহণ করুন। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাবেন, দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলবেন। পেটের অসুখ যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন। নিজের প্রতি আস্থা রাখুন, সব সময় ইতিবাচক ধারণা পোষণ করুন।
চাওয়া-পাওয়ার জন্য স্রষ্টার সাহায্য প্রার্থনা করুন। সব ক্ষেত্রে নিয়ম-নীতি মেনে চললে সুখ, সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
আলম শামস
