বামহাতি স্পিনারদের বিপক্ষে আপনাদের কৌশল কি হবে? — বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার আগে যেকোন দলের অধিনায়ককেই পড়তে হয় এমন প্রশ্নের সামনে। সেটা তো হবারই কথা! দিনের পর দিন এই বামহাতি স্পিনাররাই হয়ে উঠেছেন দেশটির ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ।
২০০৭ সালের বিশ্বকাপে তো এক সাথে প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই খেলতেন তিন জন করে বামহাতি স্পিনার। সেটাতে দারুণ সফলতাও চলে আসে। সেবারের বিশ্বকাপে ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মত বড় দলকে হারায় বাংলাদেশ। বিশ্বকাপ শেষ হলেও সেই ঐতিহ্য বজায় রাখে বাংলাদেশ। বড় দলগুলোও বাংলাদেশের এই শক্তির জায়গাকে ভয় করতে শুরু করে। সেখান থেকে দিন এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে একটু করে সরে আসতে থাকে বাংলাদেশ। তবে, নিয়মিতই খেলতেন কোন না কোন বামহাতি স্পিনার।
তবে, সেখান থেকে বাংলাদেশ একদমই সরে আসাটা একেবারেই ছিল অকল্পনীয়। সেই অভাবনীয় ঘটনাটিই ঘটে গেল গতকাল। গ্রেনাডার জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে ছিলেন না কোন বামহাতি স্পিনার।
এর আগে এমন ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হবে এক যুগ আগে; সেই ২০০২ সালে। পরের এই সময়টিতে বাংলাদেশ খেলেছে ২২৯ ওয়ানডে। এর আগে ২০০২ সালে সর্বশেষ টানা একটি সিরিজে বাংলাদেশ ছিল বামহাতি স্পিনার ছাড়া।
দক্ষিণ আফ্রিকার কিম্বারলিতে সেই সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে এক সাথে বাংলাদেশ খেলায় চার পেসারকে। তারা হলেন — তালহা জুবায়ের, তাপস বৈশ্য, আনোয়ার হোসেন মনির ও খালেদ মাহমুদ সুজন। যদিও সাত উইকেটের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচটিতে হেরেছিল খালেদ মাসুদ পাইলটের দল।
এবারের ব্যতিক্রমী এই ঘটনার কারণ অবশ্যই সাকিব আল হাসান। দেশ সেরা অল রাউন্ডারের কল্যাণে কমপক্ষে একজন বামহাতি স্পিনারের একাদশে থাকাটা এতোদিন অবধারিতই ছিল। কিন্তু এবার ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার শাস্তি নিয়ে জায়গা পাননি স্কোয়াডে। তবে দলে ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক।
কিন্তু একাদশ সাজাতে গিয়ে শেষ মুহূর্তে বাদ দেয়া হয় তাকে। তার জায়গায় একমাত্র স্পেশালিস্ট স্পিনার হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন সোহাগ গাজী। কিন্তু তিনিও বামহাতি নন।
বামহাতি স্পিনাররা বাংলাদেশের জন্য কতটা অপরিহার্য সেটা বোঝা যায় ছোট একটি তথ্যে। ১৯৮৬ সাল থেকে বাংলাদেশের ২৮৭ ওয়ানডের মাত্র ১০ টিতেই দেখা যায়নি কোন বামহাতি স্পিনারকে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে বামহাতি স্পিনার হিসেবে খেলেছেন এনামুল হক মনি, মোহাম্মদ রফিক, মানজারুল ইসলাম রানা, ফয়সাল হোসেন ডিকেন্স, আব্দুর রাজ্জাক, এনামুল হক জুনিয়র, সাকিব আল হাসান, মেহরাব হোসেন জুনিয়র, মোশাররফ হোসেন রুবেল, সোহরাওয়ার্দি শুভ, ইলিয়াস সানী ও আরাফাত সানি।
কালকের ম্যাচের আগ পর্যন্ত আগের নয়টি ম্যাচেই হেরেছিল বাংলাদেশ। এবারের ফলাফলটা কি হয়েছে তাও নিশ্চয়ই এতোক্ষণে জানা হয়ে গেছে!
