অভিজ্ঞতার পরীক্ষা শুরু মুশফিকদের

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২২:১৫
হালকা বাতাস আছে। আছে বাতাসের আর্দ্রতাও। একটু গরম আছে। আবার বৃষ্টির সম্ভাবনাও ঠিক পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছিল না। এমনই একটা পরিবেশে শুরু হল বাংলাদেশের ওয়েস্ট ইন্ডিজ পরীক্ষা। গতকাল শুরু হয়ে গেল বাংলাদেশ ও ক্যারিবীয়দের মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি। দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স আর বৈরি আবহাওয়ার কারণে— এই দুইয়ের কারণে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে সিরিজ মানেই বড় একটা চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জ নিয়েই প্রথম ম্যাচে নামলো মুশফিক বাহিনী। মুশফিকের জন্য প্রেরণা হিসেবে নিচ্ছেন ক’দিন আগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সফরকে। গত মে মাসে এই অঞ্চলটিতে খেলে গেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। সেই দলে ছিলেন এই স্কোয়াডে থাকা ইমরুল কায়েস ও সোহাগ গাজী। এটাকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের জন্য বড় একটা প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ দলের হয়ে কয়েকজন এখানে কিছুদিন আগেই খেলে গেছেন। এর বাদে অনুশীলন ম্যাচেও আমরা ভাল করেছি। সব মিলিয়ে কন্ডিশনের ব্যাপারে বেশ ভাল একটা ধারণা আমাদের এরই মধ্যে হয়ে গেছে। ব্যাটসম্যান বলেন আর বোলারই বলেন, সবাই এই মুহূর্তে দারুণ ফর্মে আছেন। তাই আমরা খুব বেশি ভয় পাচ্ছি না।’ সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতি ওয়েস্ট ইন্ডিজেও ভাবাচ্ছে মুশফিকুর রহিমকে। বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারকে ছাড়া সফরটি খুব কঠিন হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ২০০৯ সালে সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের ৩-০ ব্যবধানে জয়ের মূল কারিগর ছিলেন সাকিব। সেই সিরিজের সেরা খেলোয়াড়কে ছাড়াই অবশ্য ২০১২ সালে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩-২ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। এবার সাকিব দলে নেই বিসিবির ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার কারণে। দেশে থাকতেই মুশফিক জানিয়েছিলেন, বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারের অভাব তিনি অনুভব করবেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজেও সেই কথাই বললেন বাংলাদেশের অধিনায়ক, ‘গত আট-দশ বছর ধরে সে আমাদের সেরা খেলোয়াড়। অবশ্যই ওর অভাব অনুভব করবো। তাকে ছাড়া এই সিরিজ খুব কঠিন হবে।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে দেশের মাটিতে সিরিজেও বলার মত পারফরম্যান্স ছিল না বাংলাদেশের। বরং ৫৮ রানে অল আউট হয়ে লজ্জাই খানিকটা বেড়েছে বাংলাদেশের। তবে সেই তিন ম্যাচে তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ভরসা পাচ্ছেন মুশফিক, ‘ভারতের বিপক্ষে আমাদের শেষ সিরিজে কিছু তরুণ খেলোয়াড় এগিয়ে এসেছে। বিশ্বকাপের আগে তাদের আরো কাছ থেকে দেখার এটা আরেকটি ভালো সুযোগ।’ মুশফিকের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে দেশের বাইরে ভালো করা। গত শ্রীলঙ্কা সফরের আগে নিউজিল্যান্ডকে দেশের মাটিতেই হোয়াইটওয়াশ করেছিল মুশফিকরা। কিন্তু দেশের বাইরে বলার মত কোন সাফল্য নেই তাদের। এটাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিচ্ছেন অধিনায়ক, ‘আমরা ঘরের মাঠে ওয়ানডেতে ভালো করছি। কিন্তু বাইরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারছি না। এটা আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তবে ছেলেরা ভালো করার জন্য মুখিয়ে আছে।’ কাগজে-কলমে শক্তির বিচারে নিজেদের পিছিয়ে রেখেই মাঠে নেমেছে মুশফিকুর রহিমের দল। তবে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারলে যে কোনো ফলাফল সম্ভব বলে মনে করেন তিনি, ‘কাগজে-কলমে আমরা শক্তিশালী দল নই। তবে যদি মাঠে ভালো করতে পারি আর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে এটা আমাদের জন্য ভালো একটি সিরিজ হবে।’