আপিল করবে কাতালানরা
আগামী দুই ট্রান্সফার উইন্ডোতে নতুন কোন খেলোয়াড়কে চুক্তিবদ্ধ করতে পারছে না বার্সেলোনা। ফলে, ৩১ আগস্ট চলতি ট্রান্সফার মৌসুম শেষ হবার পর ২০১৬ সালের জানুয়ারির আগ পর্যন্ত নতুন কোন খেলোয়াড়কে দলে ভেড়াতে পারছে না স্প্যানিশ জায়ান্টরা। গত এপ্রিলে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার এই রায়ের বিরুদ্ধে করা কাতালানদের করা আবেদন গতকাল খারিজ করে দিয়েছে ফিফা।
তবে, কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টসে (সিএএস) ফিফার রায়ের বিরুদ্ধে আবেদন করার শেষ আরেকটা সুযোগ পাচ্ছে কাতালানরা। সেই সুযোগটা তারা নেবে বলে এরই মধ্যে জানানো হয়েছে ক্লাবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।
বার্সেলোনার ১৮ বছরের কম বয়সী আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়দের চুক্তিবদ্ধ করার ব্যাপারে নিয়মবিরুদ্ধ বেশ কিছু বিষয় খুঁজে পায় ফিফা। ফলশ্রুতিতে নতুন খেলোয়াড় কেনাবেচার ব্যাপারে বার্সেলোনাকে ১৪ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেয় তারা। করা হয় বড় অঙ্কের জরিমানাও। বার্সেলোনার সাথে জরিমানা করা হয় স্প্যানিশ ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা রিয়াল ফেডারেশন এসপানিওলা ডি ফুটবল (আরএফইএফ) কেও।
ঐ রায়ের তিন দিনের মধ্যেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে বার্সেলোনা। ফলে আপিল আবেদন পুন:মূল্যায়নের মধ্যবর্তী সময়ের ভেতর নতুন খেলোয়াড় কেনার সুযোগ পায় তারা। লুইস সুয়ারেজ, মার্ক ভারমালেনসহ মোট ছয় জন নতুন খেলোয়াড়ও কেনে তারা।
তবে গতকাল ফিফা জানায়, ‘তরুণদের নিরাপত্তার জন্য’ আগের রায়ই বহাল রাখছে তারা। তাদের বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘স্প্যানিশ ফুটবল ক্লাব এফসি বার্সেলোনা এবং রিয়াল ফেডারেশন এসপানিওলা ডি ফুটবলের (আরএফইএফ) আপিল আবেদন খারিজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফিফা। ফলে তরুণদের নিরাপত্তা দেয়ার বিষয়ে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটির সিদ্ধান্তই বহাল থাকছে।’
ফলে আগামী দুই ট্রান্সফার মৌসুমে যে বার্সেলোনার খেলোয়াড় কেনা হচ্ছে না ফিফার বিবৃতিতে পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে সেটাও, ‘নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে বার্সেলোনাকে টানা দুটি পূর্ণ ট্রান্সফার মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হচ্ছে। পরবর্তী (জানুয়ারি ২০১৫) ট্রান্সফার উইন্ডো থেকে এটি কার্যকর হতে যাচ্ছে।’
‘নিয়মের চর্চা নিশ্চিত করার’ লক্ষ্যে বার্সেলোনাকে আগামী নব্বই দিনের মধ্যে দুই লাখ ৯৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা দেবারও নির্দেশ দিয়েছে ফিফা।
এখন সিএএস যদি বার্সেলোনার এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে তাহলে নিষেধাজ্ঞা শেষ হবার আগে চলতি ট্রান্সফার মৌসুমই হতে যাচ্ছে তাদের খেলোয়াড় কেনার শেষ সুযোগ। উল্লেখ্য, ইউরোপের বেশ কয়েকটি প্রধান ফুটবল খেলুড়ে দেশের সাথে মিল রেখে স্পেনেও বছরের মূল ট্রান্সফার উইন্ডোর সময়সীমা থাকে ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। আর বছরের দ্বিতীয় ট্রান্সফার উইন্ডোটি থাকে ১ জানুয়ারি থেকে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
তবে কাতালানরা আশাবাদী সিএএস’র রায় তাদের পক্ষেই যাবে। ক্লাবের ওয়েবসাইটে বলা হয়, ‘এফসি বার্সেলোনা ফিফার রায়ের বিরুদ্ধে সিএএসে আবেদন করবে।’
বার্সেলোনার ২০০৯ থেকে ’১৩ সাল পর্যন্ত ১৮ বছরের কম বয়সী খেলোয়াড় চুক্তিবদ্ধ করার ব্যাপারে বেআইনী কার্যক্রম খুঁজে পায় ফিফা। বার্সেলোনার পাশাপাশি ফিফা দোষী সাব্যস্ত করে স্পেনের ফুটবল ফেডারেশনকেও। তাদের জরিমানার পরিমাণ তিন লাখ ৩০ হাজার পাউন্ড।
সুয়ারেজ, ভারমালেন, জেরেমি ম্যাথিউ, ইভান র্যাকিটিক, মার্ক আন্দ্রে টার স্টিগেন এবং ক্লদিও ব্রাভোর পাশাপাশি বার্সেলোনা তাদের বি দল থেকে মূল দলে নিবন্ধন করে জর্দি ম্যাসিপকে। ফিফার রায় অনুমান করতে পেরেই কিনা সেল্টা ভিগোতে ধার হিসাবে খেলতে থাকা রাফিনহাকেও ডেকে পাঠায় তারা। এরই মধ্যে তার নিবন্ধনও সম্পন্ন করা হয়। বিবিসি ও দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট
