২০১৯ সালের অনেক আগেই নির্বাচন হবে :ফখরুল

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২৩:০৫
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংলাপ করতে হবে। ২০১৯ সালের অনেক আগেই নির্বাচন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। যদি সরকার মনে করে ২০১৯ সালের আগে নির্বাচন হবে না, তবে তারা ভুলের স্বর্গে বাস করছে। মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলন একটি বিজ্ঞান। রাস্তায় যখন গাড়ি চলে তখন প্রথমে ফাস্ট গিয়ার, তারপর সেকেন্ড গিয়ার, থার্ড গিয়ার ও সবশেষে টপ গিয়ারে চালাতে হয়। বিএনপি এই অবৈধ সরকার পতনে এ বিজ্ঞানের ফর্মূলা ফলো করবে। ধীরে ধীরে আন্দোলনকে টপ গিয়ারে নিয়ে যাওয়া হবে। ঢাকা রিপোর্টার ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে গতকাল বুধবার এসব কথা বলেন তিনি। মিট দ্য প্রেসের আয়োজক ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। এ সময় রিপোর্টার ইউনিটির সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান ও সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদসহ ডিআরইউ এর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি মুক্ত সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করে। সাংবাদিকরাই সেই বিবেক যারা গণতন্ত্র অক্ষুণ্ন রাখিতে পারেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র আজ মহা সংকটে। গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নির্ভর করে গণতন্ত্রের চর্চার উপর। ফখরুল বলেন, যে দলটি স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিল বলে প্রচার করে থাকে, সেই দলটির হাতেই আজ গণতন্ত্র নির্যাতিত। যে অবিসংবাদিত নেতা গণতন্ত্রের জন্য নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তার হাতেই গণতন্ত্র প্রথম নিহত হয়েছিল। এটা ছিল খুব দুঃখজনক। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও আজ একইভাবে গণতন্ত্র নির্যাতিত হচ্ছে। দেশে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে একটি সেটেলড বিষয়কে আবার আনসেটেলড অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে সরকার। মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের মূল বিষয় হচ্ছে সহিষ্ণুুতা। কিন্তু আওয়ামী লীগ সে জায়গা থেকে সরে এসেছে। জাতিসংঘের বিশেষ দূত অস্কার ফার্নান্ডেজ তারানকোর উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ বলেছিল, এই মুহূর্তে নির্বাচনের সিডিউল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে পরবর্তী নির্বাচনের জন্য শিগগিরই আমরা সংলাপ ও আলোচনা চালিয়ে যাব এবং একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে আসব। কিন্তু আওয়ামী লীগ আজ এ প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করছে। বিচারপতিদের অপসারণের জন্য সংবিধান সংশোধনীর বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার নিজেদের সুবিধার জন্য বারবার সংবিধান পরিবর্তন করছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপদজনক। ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগের এক নেতা তো ইতোমধ্যেই বলে ফেলেছেন, গণতন্ত্র দিয়ে উন্নয়ন হয় না। আরেক নেতা বলেছেন, দেশে রেজিমেন্টেড ডেমোক্রেসি প্রয়োজন। এভাবে তারা একদলীয় শাসনকে চিরস্থায়ী করতে চায়। তবে, মানুষ এটা কখনও মেনে নেবে না। ২০১৯ সালের আগে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না বলে আওয়ামী নেতাদের এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, এর অনেক আগে অবশ্যই দেশে আরেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। আন্দোলন কবে নাগাদ তুঙ্গে উঠবে এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সুদির্নিষ্ট দিন-তারিখ দিয়ে তো আন্দোলন হয় না। আরাম প্রিয়তার কারণেই মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ২০ দলীয় জোটের সমাবেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অনুপস্থিত ছিলেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, সাময়িক অসুস্থতার কারণেই ম্যাডাম মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানে থাকতে পারেননি। সাংবাদিক গ্রেফতারের নিন্দা গতকাল এক বিবৃতিতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার বার্তা সম্পাদক রবিউল্ল¬াহ রবি, মানবজমিন পত্রিকার সিলেটের বিশেষ প্রতিনিধি চৌধুরী মুমতাজকে গ্রেফতার এবং দৈনিক সমকাল পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো চিফ ও বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পুলক চ্যাটার্জীকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। এছাড়া দুর্নীতির সংবাদ পরিবেশন করায় পটুয়াখালীতে বিডি নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডট কম এর সাংবাদিক সঞ্জয় কুমার দাস এবং মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের পটুয়াখালী প্রতিনিধি মো. জলিলকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। এই সকল অন্যায়, হিংসাশ্রয়ী, ন্যক্কারজনক ও অমানবিক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।