গাজায় আবারো ইসরাইলের নৃশংস হামলা শুরু হয়েছে। যুদ্ধবিরতির চেষ্টা ভেস্তে যাওয়ার পর গত মঙ্গলবার এবং গতকাল বুধবারের হামলায় গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামপন্থী সংগঠন হামাস কমান্ডারের স্ত্রী-পুত্রসহ নিহত হয়েছে ১৯ জন। এ নিয়ে গাজায় ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা দুই সহস্রাধিক ছাড়ালো। পুনরায় সংঘাত শুরু হওয়ায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যকার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। এদিকে এই যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে যাওয়ায় ইসরাইল এবং ফিলিস্তিন একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। খবর বিবিসি, আল-জাজিরা ও রয়টার্সের।
ইসরাইলি হামলায় মঙ্গলবার রাতে হামাসের শীর্ষ নেতা মোহাম্মেদ দেইফের স্ত্রী ও শিশুসন্তান নিহত হয়। মিসরের রাজধানী কায়রোতে হামাসের এক কর্মকর্তা বলেন, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সংগঠনটির সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মেদ দেইফ। তিনি বলেন, দেইফ বেঁচে আছেন এবং কমান্ডারের ভূমিকা পালন করছেন বলে জানিয়েছে হামাস। হামাসের নির্বাসিত নেতা মুসা আবু মারজুককে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, নিহত দুইজন দেইফের স্ত্রী ও ছেলে। এদিকে গতকাল বুধবার সকালে গাজায় ইসরাইলি হামলায় একই পরিবারের আটজনসহ কমপক্ষে নয়জন নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা বলেছেন, যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর একশ জনের মতো মানুষ আহত হয়েছে।
ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে পাঁচদিনের সাময়িক অস্ত্রবিরতির মেয়াদ সোমবার মধ্যরাতে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়ে মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত করা হয়। তবে অস্ত্রবিরতি শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই দু’পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগ আনে। ইসরাইল দাবি করেছে, গাজা থেকে ১৩৭টি রকেট হামলা করা হয়েছে। তবে রকেট হামলায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামাসের রকেট হামলার জবাবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্দেশে গাজায় নতুন করে বিমান হামলা চালায় দেশটির সেনাবাহিনী। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা গাজায় ৯২টি বিমান হামলা চালিয়েছে। রকেট হামলার ব্যাপারে হামাসের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।
এদিকে গাজায় পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর মিসরের রাজধানী কায়রোয় চলা শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছা্ড়াই শেষ হয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রধান আলোচক আজম আল-আহমেদ কোনো সিদ্ধান্তে না আসার জন্য ইসরাইলকে দোষারোপ করেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মুখপাত্র মার্ক রেগেভ বলেছেন, গাজা থেকে রকেট হামলা অব্যাহত থাকায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এই রকেট হামলার ফলে আলোচনা যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল তা ধ্বংস হয়ে গেছে। আলোচনা ভেঙ্গে যাওয়ায় এরই মধ্যে ইসরাইলি কূটনীতিকরা দেশে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন। হামাসের বিরুদ্ধে রকেট হামলার অভিযোগ এনে গত ৮ জুলাই থেকে গাজায় সামরিক হামলা শুরু করে ইসরাইল। ইসরাইলি হামলায় গতকাল পর্যন্ত ২ হাজার ১০৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অপরদিকে হামাসের রকেট হামলায় প্রাণ হারিয়েছে ৬৭ জন ইসরাইলি যাদের অধিকাংশই দেশটির সেনাবাহিনীর সদস্য।
