সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় দ্রুত পরিকল্পনা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০১৪, ২৩:১৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গোপসাগরে ভারত ও মিয়ানমারের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত এলাকা সুযোগ্য পরিকল্পনার মাধ্যমে রক্ষার প্রস্তুতি এবং জনগণের কল্যাণে সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি গতকাল বুধবার তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে সমুদ্রসীমা বিজয়ের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা ও আহরণের জন্য কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, গবেষণা ও জরিপের মাধ্যমে আমাদের সমুদ্রসীমার সম্পদ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। তিনি বলেন, সমুদ্রের গভীর-অগভীর যে কোন এলাকায় গবেষণা ও জরিপ পরিচালনা অব্যাহত থাকবে। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব একেএম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে বলেন, সংশ্লিষ্ট সচিবগণ, নৌবাহিনী প্রধান, স্পারসোর চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের সার্ভেয়ার জেনারেল ও চেয়ারম্যান বৈঠকে সামুদ্রিক সম্পদের উন্নয়ন ও ব্যবহারের ওপর ১০টি ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাগণ, নৌবাহিনী প্রধান, সচিবগণ ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুব সংক্ষিপ্ত সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে আমাদের এই বিজয়কে সুসংহত করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সামুদ্রিক সম্পদ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিপ্লব বয়ে আনবে।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উেক্ষপণ করা হবে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার সমুদ্র ও এর সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ডকে আরো শক্তিশালী করার পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রের প্রতিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে সকল সম্পদ আহরণের লক্ষ্যে নিজস্ব পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশ দেন। এছাড়া শেখ হাসিনা চর এলাকা রক্ষা এবং সেগুলোকে বাসযোগ্য করার লক্ষ্যে ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেন। তিনি বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন করে বিডিং শুরু করতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে কোন বিডার যাতে একচেটিয়ে প্রতিষ্ঠা করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী সমুদ্রে আকর্ষণীয় পর্যটন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সকলকে যতোদ্রুত সম্ভব জনগণের কল্যাণে সামুদ্রিক সম্পদ আহরণে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। এ ব্যাপারে তিনি সামুদ্রিক এলাকা থেকে খনিজ ও মত্স্য সম্পদ আহরণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি খনিজ সম্পদ আহরণে জ্ঞান অর্জন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারেরও আহ্বান জানান। মুসলিম দেশসমূহের ঐক্য কামনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনের জনগণের অধিকার রক্ষায় ও সংকট মোকাবিলায় শক্তিশালী ঐক্য গড়ে তোলার জন্য বিশ্বের মুসলিম দেশসমূহের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। ঢাকায় সফররত কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চীফ অব স্টাফ লে. জেনারেল খালেদ মোহাম্মদ আল-কাদের গতকাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে সাক্ষাত্কালে তিনি এ আহবান জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি এ কে এম শামীম চৌধুরী বলেন, বৈঠকে বন্ধুপ্রতিম দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে অত্যন্ত চমত্কার উল্লেখ করে এই সম্পর্ক আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বৈঠকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবস্থাপনায় একাধিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কুয়েতের জেনারেলকে অবহিত করে বলেন, কুয়েতী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা বাংলাদেশে এ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ নিতে পারে। তিনি দু’দেশের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নে দু’দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সফর বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশে নিযুক্ত কুয়েতী রাষ্ট্রদূত আলী আহমেদ ইব্রাহিম এ সময় উপস্থিত ছিলেন। ২৬ আগস্ট হজ্ব ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে হজ্ব ফ্লাইট উদ্বোধন করবেন। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে কমিটির চেয়ারম্যান বজলুল হক হারুন গতকাল সাংবাদিকদের একথা জানান। তিনি বলেন, কমিটি হজ্ব ফ্লাইট সিডিউল পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে নির্দেশ দিয়েছে। ‘যদি কোন হজ্ব এজেন্সী হজ্বযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে তাহলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং জড়িত এজেন্সীর বিরুদ্ধে মামলা করবে।’ স্থায়ী কমিটি সভাপতি বজলুল হক হারুনের সভাপতিত্বে সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।