মুদ্রিত সংবাদপত্রের সম্পাদকরা এক বিবৃতিতে বলেছেন, জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালার মাধ্যমে সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। বুধবার পরিষদের সভাপতি দৈনিক সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, “সমপ্রতি ঘোষিত জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালাসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে বলে সম্পাদক পরিষদ উদ্বিগ্ন। এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে বলে সম্পাদক পরিষদ মনে করে।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, “সংবিধানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ যেসব নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, তথ্য অধিকার আইনে অবাধ তথ্য লাভের যে সুযোগ অবারিত করা হয়েছে, সরকারের সামপ্রতিক পদক্ষেপ তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এর ফলে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল ও গণমাধ্যমের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে।”
‘দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অংশীজনদের দ্বারা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আচরণবিধি’ প্রণয়নের যে কোনো উদ্যোগকে সম্পাদক পরিষদ স্বাগত জানাবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।
বিবৃতিতে মঙ্গলবার ইনকিলাব কার্যালয়ে পুলিশি অভিযান ও দেশের বিভিন্ন স্থানে গণমাধ্যম কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং তাদের ওপর হামলার নিন্দা জানানো হয়।
বুধবার ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে সম্পাদক পরিষদের এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে। সভায় প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম মূসা এবং ইনডিপেন্ডেন্টের সাবেক সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সদস্য মাহবুবুল আলমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয়।
সভায় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকদের মধ্যে মাহফুজ আনাম, মতিউর রহমান, রিয়াজ উদ্দিন আহমদ, তাসমিমা হোসেন, মতিউর রহমান চৌধুরী, মোজাম্মেল হোসেন, শ্যামল দত্ত, আলমগীর মহীউদ্দীন, খন্দকার মুনীরুজ্জামান, মোয়াজ্জেম হোসেন, ইমদাদুল হক মিলন, নঈম নিজাম, শাহজাহান সরদার, সাইফুল আলম, দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, আমির হোসেন ও এম শামসুর রাহমান উপস্থিত ছিলেন।
