গান ও শিল্পী

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২১:৩১
বিনোদন রিপোর্টাররা আজকাল লেখেন— এখনকার অমুক শিল্পী সংগীতে ইতিহাস তৈরি করেছেন। আধুনিক গানের বাজারে রেকর্ড গড়তে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু আমরা পথে চলতে এখনকার গান কোনো কোনো দোকানি বাজালেও কাউকে থমকে দাঁড়াতে দেখি না। অথচ একটা সময় গেছে, আব্বাস উদ্দীন আহমেদের ‘মাঝি বাইয়া যাওরে’ শুনলেই সর্বশ্রেণির মানুষ থমকে দাঁড়াতো। পুরো গানটা না শুনে কেউই সামনে আগাতো না। জগন্ময় মিত্রের ‘তুমি আজ কত দূরে’ এখনও শোনা শেষ হয়নি বাঙালির। একেই বলে আধুনিক গান। এখন টিভির সামনে বসে সবাই মিলে গান শোনেও না। অথচ শৈশবে দেখেছি, অনুরোধের আসর কিংবা গ্রামোফোনে গান শুনবার জন্য ঘরে লোক জমে যেতো। উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের পাশে বসে বুড়া-বুড়িরা পান খেয়ে শুনতো শচীন দেব বর্মনের কত না গান। সেই যে— ‘নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক ... শ্যামা মেয়ে নাচে’। এ গান তো এখনো শিল্পীরা টিভিতে গায়। একদা সব বয়সী মানুষের আলোচনায় ছিল গান আর গানের শিল্পী। স্বর্ণ যুগের কণ্ঠ ফেরদৌসী রহমান, আঞ্জুমান আরা বেগম, আবদুল আলীম, মোহাম্মদ আবদুল জব্বার— এঁদের কথা কেউ-ই কোনোদিন ভুলবে না। যে জন্য তাঁদের গান ঘুরে ফিরে এ প্রজন্মের শিল্পীরাও গেয়ে বাহ্বা কুড়ান। ‘মধুর আমার মায়ের হাসি..., সুধীর লাল চক্রবর্তীর এই অমর গান তাঁর মৃত্যুর পরে কত শিল্পী গেয়েছেন। এসব কালজয়ী গানের আবেদন আজও ফুরিয়ে যায়নি। তবে এখনকার গান কি আর মনে দাগ কাটে! যা সত্যি যা সত্যি নয়— যে যা নয়— এটুকু স্বীকার করতে এত কার্পণ্য কেন? লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর, ঢাকা