অতিচাপে খেই হারানোই দায়ী!

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫২
বাজে একটা বল! এতো সহজে উইকেট চলে আসলো— এতোটা নিশ্চয়ই স্বপ্নেও কল্পনা করেননি পেসার আল আমিন। সোহাগ গাজীর হাতে স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ডোয়াইন ব্রাভো। ৩৪ রানে ৫ উইকেট নেই স্বাগতিকদের। ম্যাচে এই সময়টা পর্যন্ত বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাই ছিল বেশি। কিন্তু সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দিলেন দু’জন। দিনেশ রামদিন ও কাইরন পোলার্ড। আর এতেই স্বপ্ন ছিনতাই হলো বাংলাদেশের। ৬২ বল বাকি থাকতে তিন উইকেটের এক সহজ জয় নিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ক্যারিবিয়রা। ম্যাচ শেষে মুশফিক সামনে নিয়ে আসলেন অতি চাপে খেই হারিয়ে ফেলাকে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসে বলেন, ‘বোলাররা শুরুতে দারুণ বল করছিলেন। খুব দ্রুত আমরা পাঁচটি উইকেট তুলে নিতে পেরেছিলাম। কিন্তু এর পরের চাপটা আর নিতে পারিনি। খুব বেশি লুজ ডেলিভারি দিচ্ছিলেন বোলাররা। ফলে ওদের কাজটা অনেক সহজ হয়ে আসে।’ এর বাইরে ব্যাটসম্যানদেরও দুষলেন মুশফিক। এক এনামুল হক বিজয়ের ১০৯ রান বাদ দিলে বাকিরা মিলে করেছেন ১০৮ রান। সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে বলে মানছেন তিনি, ‘আমরা ২০-২৫ রানে পিছিয়ে গিয়েছিলাম। এনামুল ভাল ব্যাট করেছে। কিন্তু বাকিরা তেমন কিছুই করতে পারেনি। অনেকে খুব সহজেই আউট হয়ে ফিরে এসেছে।’ জুটিটায় যেমন কপাল পুড়েছে বাংলাদেশের; ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ঠিক তার বিপরীতটা। ম্যাচ শেষে তাই দুই ব্যাটসম্যানের জন্য অধিনায়ক ব্রাভো খুলে দিলেন প্রশংসার অবারিত দুয়ার, ‘আমার মতে এটা দারুণ একটা দলীয় পারফরম্যান্স ছিল। এর বাইরে রামদিন ও পোলার্ডের কথা আলাদা করেই বলতে হয়। দু’জনের জন্যই এটা ছিল ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা দুটি ইনিংস।’ তবে, এই অবস্থা থেকেও সিরিজ জয় সম্ভব বলেই মনে করছেন মুশফিক, ‘ম্যাচটা থেকে আমাদের প্রাপ্তিও কম নয়। অন্তত এটুকু অনুমান করা গেছে যে এখান থেকেও আমাদের পক্ষে জেতা সম্ভব। এখানে খুব অল্প সময় ধরে আমরা আছি। মানিয়ে নিতে কষ্ট হবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে, জয় পাওয়াটা অসম্ভব নয়। তবে, সেজন্য অবশ্যই নিজেদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে হবে আমাদের।’ ১৪৫ রানের জুটি গড়েছেন এই দুই ব্যাটসম্যান। অল্পের জন্য ছুঁয়ে ফেলতে পারেননি ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের জুটি। ১৯৯১ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহতে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্যার রিচি রিচার্ডসন ও জেফ ডুজন মিলে যোগ করেছিলেন ১৫৪ রান। সেটাই এখনও পর্যন্ত ষষ্ঠ উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বোচ্চ রানের জুটি। অবশ্য একটা জুটি অবশ্য ঠিকই করে ফেলেছেন এই দু’জন। বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার সিরিজে এটাই ষষ্ঠ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। এতোদিন এই রেকর্ডের মালিক ছিলেন আল শাহরিয়ার রোকন ও খালেদ মাসুদ পাইলট। ১৯৯৯ সালে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ১২৩ রানের জুটি গড়েছিলেন এই দু’জন। গতকাল এই রেকর্ড চলে গেল উইন্ডিজের দখলে। ম্যাচ শেষে তাই সন্তুষ্ট ছিলেন এই দুই ব্যাটসম্যান। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান ৮৯ রান করা পোলার্ড। কনুইয়ের ইনজুরির কারণে অনেকদিন ছিলেন দলের বাইরে। ফিরেই খেলে ফেললেন ম্যাচ বাঁচানো এক ইনিংস। ম্যাচ শেষে তাই তৃপ্তই ছিল পোলার্ডের কণ্ঠ, পুরস্কার নিতে এসে তিনি বলেন, ‘সিপিএলের শেষ কয়েকটা ম্যাচে আমার ব্যাট ও বলের সংযোগটা বেশ ভাল হচ্ছিল। আজকে সুযোগটা পেয়েই কাজে লাগাতে পেরে ভাল লাগছে। যখন ব্যাট করতে নেমেছিলাম তখন অনেক চাপ ছিল। সেই চাপটা জয় করে ম্যাচ জিতেছি সেটাই বড় কথা।’