পুরনো উইন্ডিজ নতুন বিজয়!

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫৩
বাংলাদেশের ইনিংসে তখন ১৪ তম ওভার পাড় হয়ে গেছে। এক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানের রান তখনও ১২। বল খেলে ফেলেছেন ৩১ টি। রীতিমত গর্হিত অপরাধ! সেখান থেকে ইনিংসকে নতুন করে গড়ে তোলা কোন সহজ কাজ নয়। প্রায় অসম্ভব কাজটাই করে ফেললেন সেই ওপেনার—এনামুল হক বিজয়। ৫০ ওভার শেষ হতে হতে তিনি খেলে ফেলেছেন আরও ১০৭ বল। তাতে রান এসেছে ৯৭। ব্যাস, হয়ে গেল সেঞ্চুরি। মাত্র ২০ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে পেয়ে গেলেন তৃতীয় সেঞ্চুরি। স্লো উইকেটে স্ট্রাইক রেটটাও নিতান্ত মন্দ নয় — ৭৮.৯৮! প্রতিপক্ষের নাম যখন ওয়েস্ট ইন্ডিজ তখন এমনটা তো হওয়ারই কথা ছিল। ক্যারিবিয়দের বিপক্ষে ছয় ম্যাচে তার রান ৩০৪। ৫০.৬৬ গড়ে করেছেন দুটি সেঞ্চুরি। এনামুল এর চেয়ে বেশি গড়ে রান করেছেন আর মাত্র একটি দলের বিপক্ষেই। পাকিস্তানেরে বিপক্ষে গত এশিয়া কাপের ম্যাচে এক ম্যাচে সেঞ্চুরি দিয়েই পাকিস্তানের বিপক্ষে তার গড় হয়ে গেছে ১০০। প্রথম ওভার দশেক ঠিক ব্যাটে-বলে হচ্ছিল না। স্ট্রাইক রেটও তাই বেশ খানিকটা কমে গিয়েছিল। জ্বলে উঠলেন আরেক উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল আউট হয়ে যাওয়ার পর। আরও নির্দিষ্ট করে বললে ইনিংসের ১৫ তম ওভারে। সেই ওভারের শেষ বলে পেসার জেসন হোল্ডারের ফুল লেন্থ ডেলিভারির বলে সহজেই পরাস্ত করলেন থার্ড ম্যানে অপেক্ষমাণ ফিল্ডারকে। এরপরে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করে গেছেন। চোখের সামনে একে একে আউট হতে দেখেছেন একের পর একজনকে। কিন্তু তিনি ঠাঁয় উইকেট কামড়ে পড়ে ছিলেন। রানের চাকাটাও তাতে সচলই ছিল বলা যায়। ১১ টি চার ও পেসার রবি রামপলের বলে এক ছক্কাসহ ইনিংসের শেষ বলে আউট হবার আগ পর্যন্ত করেছেন ১০৯ রান। বাকিরা সবাই মিলে করেছেন ১০৮ রান। বিজয়ের ইনিংসটা না হলে কি হত তা বোধ করি আর বলার অপেক্ষা রাখে না! এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেকেই ৪২ রান দিয়ে তার আবির্ভাব। সময়টা ২০১২ সালের ডিসেম্বর। পরের ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে হয়ে গেলেন জয়ের নায়ক। এরপর দীর্ঘদিনের বিরতি। পরীক্ষার বিরতি আর অফ ফর্ম মিলিয়ে দলে জায়গা নিশ্চিত করতেই টানাটানি পড়ে গেল। কপাল খুললো মুশফিকের ইনজুরিতে। উইকেট রক্ষকের অভাব মেটাতেই নিয়মিত হলেন একাদশে। কিন্তু এক দায়িত্বে সন্তুষ্ট থাকলেন না এনামুল হক বিজয়। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অল্পের জন্য দলের জয় আনতে পারেননি। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে ৭৭ রানের ইনিংসটিও ঢাকা পড়ে গিয়েছিল অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরির আড়ালে। কিন্তু এবার আর পার্শ্বচরিত্র হয়ে থাকতে হল না। পাকিস্তানের বিপক্ষে গতকাল মঙ্গলবার পেলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। বিজয়ের মাসের পর এবার স্বাধীনতার মাসে চড়াও হল বিজয়ের ব্যাট। আর তাই এই ওপেনারের দারুণ এক কার্যকর ইনিংসের পর বাংলাদেশের ইনিংস গিয়ে ঠেকলো ৩২৬ রানে। তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি বাংলাদেশের। এবারও হল না। এমন সেঞ্চুরির পরও পরাজিত দলেই ঠাঁই হল বিজয়ের। বাংলাদেশের জন্যও বাড়লো একটা জয়ের অপেক্ষা! বাংলাদেশের সেঞ্চুরি নায়করা খেলোয়াড় সংখ্যা সাকিব আল হাসান ৫ শাহরিয়ার নাফিস ৪ তামিম ইকবাল ৩ এনামুল হক বিজয় ৩ মোহাম্মদ আশরাফুল ৩