লিওনেল মেসি, লুইস সুয়ারেজ, নেইমার। যেকোন প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়াল ধ্বংস করে দিতে এর যেকোন একজনই যথেষ্ট। আর সেই তিনজন যদি একই দলে হন, তাহলে তো বিপক্ষ কোচের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যেতে বাধ্য! অথচ পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, প্রতিপক্ষ নয় উল্টো চাপে আছেন তারা তিনজনই। গত বছর ট্রফিহীন একটি মৌসুম কাটানোর পর এবার প্রায় দেড় বছরের ট্রান্সফার নিষেধাজ্ঞা। টানা ব্যর্থতার ধাক্কায় বিপর্যস্ত বার্সেলোনাকে সাফল্যের ধারায় ফেরানোর মূল দায়িত্ব যে বর্তেছে আক্রমণভাগের এই তিন তারকার উপরেই।
তবে দলের প্রাক মৌসুম অনুশীলন দেখে নতুন কোচ লুইস এনরিকের বিশ্বাস কাতালানদের জন্য চলতি মৌসুম শেষে দারুণ কিছুই অপেক্ষা করছে। তবে পেপ গার্দিওলার বার্সেলোনার টিকিটাকা নয়, এই মৌসুমে কাতালানরা তার কৌশলেই খেলবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
পরিচালনা পর্ষদে রাজনৈতিক অস্থিরতা আর আদালত সম্পর্কিত নানান ঘটনার প্রকাশ পায় বার্সেলোনার মাঠের পারফরম্যান্সেও। ছয় মৌসুম পরে গত বছর শিরোপাহীন একটি বছর কাটাতে বাধ্য হয় লা লিগা জায়ান্টরা। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কাছে লিগ শিরোপা খোয়ায় তারা। আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে একই প্রতিপক্ষের কাছে হেরে যায় তারা।
সেই ব্যর্থতা ভুলতে এবার দলে বড় ধরনের পরিবর্তনই ঘটিয়েছে তারা। নতুন প্রেসিডেন্ট বার্তেমেউর নেতৃত্বে মার্টিনোর বদলে ঘরের মানুষ এনরিকেকে কোচের চেয়ারে বসিয়েছে তারা। মৌসুমের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ট্রান্সফারের রেকর্ড গড়ে লিভারপুল থেকে ভেড়ানো হয়েছে সুয়ারেজকে।
রক্ষণে কার্লোস পুয়োলের শূন্যস্থান ঢাকতে আনা হয়েছে সাবেক আর্সেনাল অধিনায়ক টমাস ভারমালেনকে। ভ্যালেন্সিয়া থেকে কেনা হয়েছে ৩০ বছর বয়সী জেরেমি ম্যাথিউকে। দীর্ঘদিন ধরে বার্সেলোনার গোলপোস্ট আগলানো ভিক্টর ভালদেস দল ছেড়ে দেয়ায়, তার শূন্যস্থান ঢাকতে আনা হয়েছে চিলির অধিনায়ক ক্লদিও ব্রাভোকে। বরুশিয়া মনচেনগ্লাডবাখ থেকে ডেকে পাঠানো হয়েছে জার্মান ক্লাবটিতে ধার হিসাবে খেলতে থাকা মার্ক আন্দ্রে টার স্টিগানকে।
তবে তরুণ এই খেলোয়াড়দের ক্লাবের পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে সময় দিতে হবে সন্দেহ নেই। অন্যদিকে ফিফা গত বুধবার খেলোয়াড় কেনার উপরে তাদের ১৪ মাসের নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখায় বার্সেলোনা আগামী দুই ট্রান্সফার উইন্ডোতে কিনতে পারছে না নতুন কাউকেই।
এই দুই বিষয়ের যোগফল হিসাবেই নতুন দায়িত্ব যোগ হচ্ছে এই মুহূর্তে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণত্রয়ীর উপরে।
এই মৌসুমে এরই মধ্যে দেড় কোটি ইউরোর বেশি খরচ করে ফেলায় বাড়তি চাপ থাকবে সমর্থকদের পক্ষ থেকেও। সুতরাং বিশ্ব জুড়ে বিপুল সমর্থক গোষ্ঠী তো বটেই ক্লাব কর্তৃপক্ষও বড় কিছুই চাইবে সুয়ারেজ- মেসি-নেইমারদের কাছ থেকে।
তবে, সুয়ারেজ মৌসুমের প্রথম দিকের ম্যাচগুলোতে নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে না পারায় মূল দায়িত্ব নিতে হবে পুরনো সৈনিক মেসি এবং নেইমারকেও। এই মৌসুমে নিজেকে প্রমাণের বাড়তি চেষ্টা থাকবে নেইমারেরও। কারণ এই বার্সেলোনার জার্সি গায়ে এই কাতালান সুপারস্টারের প্রথম মৌসুমটা খুব একটা ভাল কাটেনি। তবে মেরুদণ্ডের চোট কাটিয়ে মাত্রই অনুশীলনে ফেরা নেইমার সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, মেসির সাথে মিলে ভয়ঙ্কর এক আক্রমণ জুটি গড়ে তুলতে প্রস্তুত তিনি।
বার্সেলোনার আক্রমণ যে এই তিনজনের উপরেই নির্ভর করবে সেরকম ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন এনরিকেকেও। গার্দিওলার সেই প্রথাগত টিকিটাকার ছোট ছোট পাসে জাভি কিংবা ইনিয়েস্তাকে কেন্দ্র করে না খেলার চাইতে বল যত দ্রুত সম্ভব এই আক্রমণত্রয়ীর কাছে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করবেন পেছনের খেলোয়াড়রা। মাঝমাঠে গতি বাড়াতে হ্যাভিয়ের ম্যাশেরানোকে তার গত মৌসুমের দায়িত্ব পাল্টে হোল্ডিং মিডফিল্ড পজিশনে আনার বিষয়টাও অনেকটা চূড়ান্ত। অর্থাত্ আর্জেন্টিনা দলে ম্যাশেরানো যে দায়িত্ব পালন করেন, বার্সেলোনায়ও তার ভূমিকাটা থাকবে অনেকটা তেমনই।
এনরিকের বিশ্বাস, নতুন-পুরনোর সম্মিলনে ভাল ফলই দেখবে বার্সেলোনা। এর আগে বার্সেলোনার বি দলের কোচের দায়িত্বে থাকা এই সাবেক বার্সেলোনা অধিনায়ক বলেন, ‘খেলোয়াড়রা যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অনুশীলন করছে সেটা আমাকে আশাবাদী করে তুলছে। আমাদের প্রতিপক্ষকে একটা নিরেট দেয়ালের মতো চেপে ধরতে হবে। বল নিজেদের দখলে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বল হারালে যত দ্রুত সম্ভব সেটা দখলে নেয়াটাও।-এএফপি
