অবশেষে শিলাইদহ কুঠিবাড়ির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫১
অবশেষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়ি সংলগ্ন অধিগ্রহণকৃত ৬ একর জমির অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুঠিবাড়ির গা ঘেঁষে গড়ে উঠা দোকানসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। জানা যায়, পূর্বঘোষিত নোটিস অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দিনভর উচ্ছেদ অভিযান চলে। অভিযানে ২টি এনজিও অফিস, ২টি বসতবাড়িসহ ৩৯টি দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনসূত্রে জানা যায়, শিলাইদহ কুঠিবাড়ি সমপ্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কুঠিবাড়ির মূল সীমানার বাইরে ৬ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলাকালে স্থানীয় ধনাঢ্য ব্যক্তি আলাউদ্দিন উচ্চ আদালতে একটি রিট করেন। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সবধরনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়া হয় আদালত থেকে। কিন্তু প্রভাবশালীরা আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ঐ জায়গার উপর বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলে। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত আলাউদ্দিনের দায়ের করা রিট মামলাটি খারিজ করে দেয়। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহায়তায় উন্নয়ন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মঞ্জুরুর রহমান-এর নেতৃত্বে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। উচ্ছেদ অভিযানে জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হেনা মোস্তফা কামাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সোহেল রেজা উপস্থিত ছিলেন। মঞ্জুরুর রহমান বলেন, দখলমুক্ত জায়গার উপর শীঘ্রই সমৃদ্ধ একটি লাইব্রেরি, গবেষণাগারসহ পর্যটকদের সুবিধায় অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জমিদারী পরিচালনার জন্য ১৮৯১ সালে কুষ্টিয়ার শিলাইদহের কুঠিবাড়িতে আসেন। ১৮৯১ সাল থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত কবি শিলাইদহ গ্রামে ছিলেন।