সরকার বিএনপিকে ভাঙ্গার চেষ্টা করছে :ফখরুল

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৪, ২৩:০১
সরকার বিএনপিকে ভাঙ্গার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, এই চেষ্টার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ নেতারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। কিন্তু বিএনপি থেকে কাউকে বের করে নেয়া যাবে না। আর যারা আন্দোলনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে, জনগণই তাদের বিচার করবে। বিএনপির সাবেক মহাসচিবপ্রয়াত আব্দুস সালাম তালুকদারের স্মরণে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘আব্দুস সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। গত ১৭ আগস্ট এক আলোচনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আমার অনেক রাজনৈতিক আলাপ হয়। তিনি একজন ভদ্র মানুষ। কিন্তু ফখরুলের জন্য আমার দুঃখ হয়, তিনি এখনও ভারমুক্ত হতে পারলেন না, ভারপ্রাপ্ত-ই থেকে গেলেন। খালেদা জিয়া ও তার ছেলে ফখরুলকে কিছুই দেবে না।’ এই বক্তব্যের জবাবে গতকাল মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্প্রতি যে মন্তব্য করেছেন তা সর্বৈব মিথ্যা। পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সৈয়দ আশরাফের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। এর আগে মাত্র তিনবার তার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একজন সজ্জন মানুষ, ধারণা ছিল তিনি মিথ্যা বলেন না। কিন্তু তিনি সম্প্রতি যে কমেন্টস করেছেন তা সত্য নয়।’ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও মির্জা ফখরুলের বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। ফখরুল বলেন, সরকার সুপরিকল্পিতভাবে একদলীয় শাসনের দিকেই যাচ্ছে। পঞ্চদশ সংশোধনী, সম্প্রচার নীতিমালা এবং বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে নেয়ার উদ্যোগ এরই অংশ। সভায় আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না বলে উস্কানি দেবেন না। রাজনীতিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় চলতে দিন। সময় আসলে জনগণ বুঝিয়ে দেবে গণআন্দোলন কাকে বলে। আয়োজক সংগঠনের চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজ উদ্দীন আহমদের সভাপতিত্বে এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, নজরুল ইসলাম খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান ও সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নান, দলের যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, প্রচার সম্পাদক জয়নুল আবদিন ফারুক ও যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল প্রমুখ।