প্রকৃতি পাঠ

কৃষ্ণচূড়া (Royal Poinciana)

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৪, ১৯:১৬
ভারত ও পাকিস্তান : গুলমোহর বৈজ্ঞানিক নাম : Delonix regia কৃষ্ণচূড়া আমাদের দেশের আগুনলাল ফুলের জন্য একটি অন্যতম পরিচিত বৃক্ষ। এ বৃক্ষের আদি নিবাস মাদাগাস্কার। ১৮২৪ সালের পরবর্তী সময়ে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এ বৃক্ষের বিস্তার ঘটে। চৈত্র থেকে বৈশাখের প্রচন্ড খড়ার মধ্যেও এ বৃক্ষের শাখায় শাখায় উজ্জ্বল লাল রঙের ফুলে ভরে যায়। প্রজাতিভেদে এ বৃক্ষের ফুল লাল, কমলা, হলুদ হয়ে থাকে। এ সময় সমস্ত শাখাগুলোতে কোনো পাতা থাকে না। বৈশাখ মাসের শেষের দিকে এ বৃক্ষের শাখাসমূহ সবুজ রক্তিম বর্ণের পাতায় নতুনরূপে সজ্জিত হয়। সবুজ রক্তিম পাতা ও লাল ফুল এই দুই মিলে কৃষ্ণচূড়া বৃক্ষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠে। এ বৃক্ষে সৌন্দর্য বর্ধক গুণ ছাড়াও, এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ বৃক্ষ। উদ্ভিদের বর্ণনা কৃষ্ণচুড়া বৃক্ষ সেরকম বড় হয় না। এটি মধ্যম আকৃতির শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট ছাতাকৃতির বৃক্ষ। এ উদ্ভিদ উচ্চতায় সর্বোচ্চ ১২ মিটার হলেও শাকা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চলব্যাপী ছড়ায়। শাখা প্রশাখার অগ্রভাগ নিম্নমুখি এবং নরম প্রকৃতির। ঝড়ে এ বৃক্ষের ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে। এ বৃক্ষের কান্ডের রং কিছুটা ধুসর বর্ণের। এ গাছের পাতা যৌগিক অর্থাত্ বোটায় অনেকগুলো পাতা থাকে। প্রতিটি পাতা ৩০-৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট। পাতা ক্ষুদ্রাকৃতির এবং অসংখ্য। পাতার বিন্যাস অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয়। কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জ্বল সবুজ পাতা এ গাছকে অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। ফুল কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং উজ্জ্বল লাল। কিন্তু কৃষ্ণচূড়ার প্রজাতিভেদে ফুল লাল, কমলা, হলুদ হয়ে থাকে। বাংলাদেশে বসন্ত কালে এ ফুল ফোটে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়িযুক্ত। পাপড়ির রং গাঢ় লাল, লাল,কমলা, হালকা হলুদ রঙের হয় । পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মত লম্বা হতে পারে। কষ্ণচূড়া সীম জাতীয় উদ্ভিদের গোত্রভুক্ত।এ বৃক্ষে ফল সীমের মত চ্যাপ্টা, কিন্তু আকার বহুগুণ বড়। কচি ফলের রং সবুজ। তাই পাতার ভিড়ে ফল দেখা যায় না। অতপর শীতের সময় পাতা হেলে যেতে দেখা যায়। কৃষ্ণচুড়া গাঢ় ধুসর এবং কাঠ প্রকৃতির। অর্থনৈতিক দিক থেকে এ গাছ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে এ গাছ দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় জ্বালানী কাঠ হিসেবে অধিক ব্যবহূত হয়। কৃষ্ণচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে। ক্যারাবিয়ান অঞ্চল, আফ্রিকা, হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, বাংলাদেশ, ভারত সহ বিশ্বের অনেক দেশে এটি জন্মে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণচূড়া শুধুমাত্র দক্ষিণ ফ্লোরিডা, দক্ষিণ পশ্চিম ফ্লোরিডা, টেক্সাসের রিও গ্রান্ড উপত্যকায় পাওয়া যায়। ভারতবর্ষে সাধারণত এপ্রিল-জুন সময়কালে কৃষ্ণচূড়া ফুল ফোটে। তবে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটার সময় বিভিন্ন। দক্ষিণ ফ্লোরিডা- জুন মাসে; ক্যারাবিয়ান - মে মাস থেকে সেপ্টেম্বর ; ভারত - এপ্রিল থেকে জুন; অস্ট্রেলিয়া - ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়াারি এবং আরব আমিরাত - সেপ্টেম্বর মাসে ফুল ফোটে।