জীবনের যেকোনো কাজেই দ্বিধা নিয়ে সামনে এগুনো মুশকিল। আর এই দ্বিধা যদি দেখা দেয় বিয়ের মতো জীবনের বড় একটি সিদ্ধান্তের বেলায় তাহলে তা নিয়ে একটু ভেবে নেয়া উচিত বৈ কি। যদিও অনেকেই বলে থাকেন যে, বিয়ের মতো একটি সিদ্ধান্ত নেবার সময় কমবেশি সবাই দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন। তবে স্রেফ মানসিক অস্থিরতার বাইরে দ্বিধার ঠাঁই যদি হয় মনের গভীরে তাহলে বিয়ে না করাই মঙ্গলজনক। বিশেষ করে তরুণীদের জন্য এ ধরনের ক্ষেত্রে বিয়ে না করারই পরামর্শ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল মনোবিজ্ঞানী। দ্বিধা নিয়ে বিয়ে করার বিষয়ে প্রথম বৈজ্ঞানিক গবেষণা দাবি করে এই গবেষণার গবেষকরা বলছেন, যেসব তরুণী সত্যিকার অর্থেই মনের দ্বিধাকে চাপা দিয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন তাদের ক্ষেত্রে বিয়ে বিচ্ছেদের হার দ্বিধাহীন চিত্তে বিয়ে করা তরুণীদের চাইতে প্রায় আড়াই গুন বেশি। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দ্বিধার কারণে এসব বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটে বিয়ের মাত্র চার বছরের মধ্যে। গবেষকরা বলছেন, বিয়ের ক্ষেত্রে বরের চেয়ে কনের সিদ্ধান্ত অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কনে যদি দ্বিধায় থাকে তবে বিয়ে পরবর্তী সময়ে সে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়। এতে দাম্পত্য জীবনে অস্থিরতা এবং এই অস্থিরতার পরিণতিতে বিচ্ছেদ অবদি হতে পারে। সম্প্রতি ফ্যামিলি সাইকোলজি সাময়িকীতে ওই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে গবেষকরা ৪৬৪ জন নববিবাহিত স্বামী-স্ত্রীর ওপর গবেষণা চালান। গবেষণা নমুনায় অংশ নেয়া দম্পতিদের ক্ষেত্রে স্বামীদের বয়স গড়ে ২৭ এবং স্ত্রীদের বয়স গড়ে ২৫ বছর ছিল। বিয়ের প্রথম থেকে প্রতি ছয় মাস পর পর তাদের ওপর জরিপ চালানো হয় এবং তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে ধরণ বুঝতে কিছু উত্তর খোঁজা হয়। এ ছাড়া দ্বিধার সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বা বিচ্ছেদের সম্পর্ক নিরুপনের জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রে বিয়ে পূর্ববর্তী নানা ঘটনা এবং সে সময় বর বা কনে কতটা নিশ্চিত হয়ে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সেই বিষয়গুলোও খুঁজে দেখা হয়। আর কয়েক বছর ধরে দম্পতিদের সম্পর্ক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন পর্যবেক্ষনের মাধ্যমেই দ্বিধা ও বিয়ের এই সমীকরণ তৈরি করেছেন গবেষকরা।
