দশ বেডের একটি ক্লিনিকের জন্য তিনজন সার্বক্ষণিক চিকিত্সক, ৬ জন ডিপ্লোমা নার্স, তিনজন সুইপার থাকার পাশাপাশি তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের সম্মতিপত্র থাকলেই তার অনুমোদন মিলবে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে। তবে অনুমোদনের আগেই তাকে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ক্লিনিক চালু করতে হবে। স্বাস্থ্য বিভাগের পরিদর্শন শেষে রেজিস্ট্রেশন লাভের পরই সেটি হবে বৈধ ক্লিনিক। এরকম বৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্যও সম্পন্ন করতে হবে কিছু প্রক্রিয়া। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী খুলনা মহানগরীতে এ ধরনের বৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ১৩১টি। আর যেসব ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন নেই তার সংখ্যা ৩৩টি। বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে খুলনায় ১৬৪টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই জনগণের স্বাস্থ্যসেবার জন্য অনেকটা হুমকি বলে মনে করছেন অনেকে। কারণ নামসর্বস্ব ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো চালানো হচ্ছে কথিত বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক আর নামকাওয়াস্তের টেকনিশিয়ান দিয়ে। কোন কোন অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গৃহবধূরাও বিশেষজ্ঞ গাইনী চিকিত্সক সেজে রোগীদের সাথে রীতিমত প্রতারণা করে চলেছেন। আবার কোন কোন প্রতিষ্ঠানে টেকনিশিয়ানরা সাজছেন বিশেষজ্ঞ সার্জন। খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে খোঁজ নিয়ে এমন চিত্র মিলেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত র্যাব-৬ এর সদস্যরা নগরীর বিভিন্ন ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে গাউসুল আযম, ফেরদৌস রহমান, সৌমেন মিত্র, ইব্রাহিম বাহাদুর, কান্তি লাল, পঞ্চানন মহলী ও অনুপ মিত্র নামে ৭ জন ভুয়া চিকিত্সককে আটক করে। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের আর্থিক জরিমানাসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। ঐ ভুয়া চিকিত্সকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি বা তার নিচে থাকলেও নামের পাশে এমবিবিএস, এমডি, পিএইচডি, পিজিটি প্রভৃতি উচ্চতর ডিগ্রি ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ চিকিত্সা সেবা দিয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল।
