এখনও পূরণ হলো না স্বপ্ন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২১:১২
শেখ মুজিবের নামটি প্রথম শুনি স্লোগানের মাধ্যমে—জেলের তালা ভাঙবো/ শেখ মুজিবকে আনবো। মওলানা ভাসানী বলেছিলেন— আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার নামে শেখ মজিবরকে জেলখানায় আটকে রাখা হয়েছে। তাকে যদি মুক্ত করে আনা যায় তাহলে মজিবর দেশের জন্য একটা কিছু করতে পারবে। মুক্ত হয়েছিলেন শেখ মুজিব। দেশের জন্য তিনি কী করেছেন তা আজ আর কারো অজানা নয়। ৭ মার্চের ভাষণে এবং তারও আগে কীভাবে তিনি একটি জাতিকে স্বাধীনতামনস্ক করে তোলেন সেটি ভাবলে বিস্ময়ে হতবাক হতে হয়। তাঁর বজ্রকণ্ঠের ভাষণ আর তর্জনী উত্তোলনে সমগ্র জাতি কালবৈশাখীর প্রলয়ঙ্কর ঝড়ের মতো, বিসুবিয়াসের বিস্ফোরণের মতা, জনপদ প্লাবী পার্বত্য বন্যার মতো কি ছুটে বেরিয়ে আসেনি দেশের মুক্তিসংগ্রামে? মুজিব কিন্তু তখন দেশে ছিলেন না—পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে বন্দি করে নিয়ে যায় পাকিস্তানে, রাখে পাকিস্তানের কারাগারে। বাংলার মানুষ কি তখনও সেই মহাবিপদের দিনে তাঁকে ভুলে থাকতে পেরেছে? পারেনি—তারা হূদয় নিংড়ে উচ্চারণ করেছে—বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মুজিবর/আকাশে বাতাসে শুনি তোমার কণ্ঠস্বর! বন্দি মুজিবের মুক্তির জন্য কত দোয়া কত দরুদ কত না প্রার্থনা। আমার মাকে দেখেছি নামাজ শেষে মুজিবের মুক্তির জন্য দীর্ঘ মোনাজাত করতে—নফল নামাজ পড়তে, রোজা করতে। জীবনের সেই ভয়ঙ্কর দুর্দিনে মুজিবের আরেক শুভার্থী ইন্দিরা গান্ধীকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বাঙালি। গান বেঁধেছে তাঁকে নিয়ে— ‘ মা ইন্দিরা তোমায় নমস্কার তোমার মতো গুণবতী দেখি নাই তো আর।’ সত্যি তাই—তাঁর মতো গুণবতী হিতাকাঙ্ক্ষী কে ছিল তখন আমাদের? তিনি যদি ভারত সীমান্তের সব বর্ডার খুলে না দিতেন—শরণার্থী শিবির না খুলতেন তাহলে বাঙালির বঙ্গোপসাগরে ডুবে মরা ছাড়া পথ ছিল না। আজ আমরা নেতাহীন। আছেন কি এমন নেতা যাঁর একটি মাত্র কথায় দেশের কঠিনতম সমস্যা এক নিমিষে সমাধান হয়ে যায়? ইন্দিরা গান্ধী মুজিবের জন্মদিনে উপহারের কথা তুলতেই শেখ মুজিব তার দূরদর্শী প্রজ্ঞা এবং রাজনৈতিক কৌশল ব্যবহার করে বলেছিলেন—আপনার সেনাবাহিনীকে যদি আমার দেশ থেকে ফিরিয়ে নেন সেটাই হবে আমার জন্মদিনের শ্রেষ্ঠ উপহার। ইন্দিরা গান্ধী মুজিবকে সেই উপহার দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। বাংলাদেশে নজরুলকে নিয়ে আজ যে সাজ সাজ রব কবিতায়-প্রবন্ধে-আলোচনায়-গবেষণায় তার মূলেও শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে ভারত সরকার বিদ্রোহী কবিকে এখানে আনার অনুমতি প্রদান করেন। কবিকে কবিভবনে নেবার পর বঙ্গবন্ধু সস্ত্রীক তাঁকে দেখতে যান। প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব কবিকে সরকারের তরফ থেকে মাসিক এক হাজার টাকা ভাতা প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। ১৯৭২ সালের ২৫ মে নজরুলকে নিয়ে বাংলাদেশ প্রথম মহাসমারোহে ‘নজরুল জয়ন্তী’ পালন করে। জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে কবিকে রাখা হয় রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ শত্রুমুক্ত করেছিলেন শেখ মুজিব তা আজো পূরণ হয়নি। আগামী প্রজন্ম যাতে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারে—সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে তাদের। বিকৃত ইতিহাসের বেড়াজাল ভেঙে তাদের জানাতে হবে মুক্তিযুদ্ধের অবিকৃত ইতিহাস। ঢাকা