নারীর নিরাপত্তা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২১:১৩
সামপ্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকা শহরে নিজ ঘরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে বেশ ক’জন নারী, তরুণী, কিশোরী। তাদের মধ্যে ধর্ষণকারীর হাতে খুনও হয়েছে কেউ কেউ। ঢাকার বাইরে সারা দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে যা প্রায়ই চাঞ্চল্য সৃষ্টি করছে জনমনে। আমরা এ কোন সমাজে বাস করছি, যেখানে নারী নিরাপত্তাহীনতা, অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সামপ্রতিক একটি রিপোর্টে দেখা যায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সারা দেশে ৩০৪ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এছাড়া যৌতুকের কারণে হত্যা করা হয়েছে ১২৭ জন নারীকে। একই সময়ে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে ৯০ জন নারীকে যৌতুকের কারণে। আর আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ৮০ জন নারী। গ্রাম্য ফতোয়াবাজির শিকার হয়েছেন ১৫ জন নারী। এর বাইরেও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেগুলো অন্তরালে থেকে গেছে। সাধারণত লোকলজ্জা, সামাজিক অপবাদ, লাঞ্ছনা-গঞ্জনার শিকার হওয়ার ভয়ে বিষয়টি চেপে যাওয়া হয়। এসব অপরাধে জড়িতরা থেকে যাচ্ছে অধরা। পুলিশি তত্পরতা বাড়লেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অপরাধী শনাক্তের কাজটাই হচ্ছে না। আর যেসব ক্ষেত্রে ভিকটিমের সহায়তায় অপরাধী চিহ্নিত হচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রে গ্রেফতারে চলছে ঢিলেঢালা অভিযান। প্রতিদিনই কোনো না কোনো নারী কোথাও না কোথাও বিকৃত মানসিকতার নরপশুদের জান্তব লালসার শিকার হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল-ইন্টারনেট এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে সবার কাছে। মোবাইল-ইন্টারনেটের এই যুগে খুব সহজেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে পরিচয়, অতঃপর বন্ধুত্ব থেকে কখনো কখনো প্রেম এমনকি প্রতারণার ঘটনাও ঘটে থাকে। আজকাল স্কুল কলেজ এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীদের যৌন হয়রানির ঘটনা পত্রিকায় ছাপা হতে দেখা যায়। প্রকৃত অবস্থা হলো নারী কোথাও নিরাপদে নেই। ধর্ষণের শিকার হওয়া একজন নারী আইনের আশ্রয় পেতে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হন। পুরুষ ডাক্তার কর্তৃক শারীরিক পরীক্ষা, পুলিশ কর্তৃক কুরুচিপূর্ণ প্রশ্নবাণ, এরপর বিচারের নামে আরো কত কত প্রহসন যে চলে তার হিসাব নেই। গ্রাম্য সালিসগুলোতে এসব ক্ষেত্রে ধর্ষিতাকেই বরং অপবাদ দিয়ে ব্যাভিচারিণী, চরিত্রহীনা আখ্যায়িত করে অপমান করা হয় চরমভাবে। ক্ষমতা ও দাপটের জোরে পার পেয়ে যায় ধর্ষক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয় না বলেই সমাজে অহরহ এসব ঘটনা ঘটেই চলেছে। ন্যূনতম শাস্তিও দুষকৃতিকারীদের পেতে হয় না। আইনের দ্রুত ও কার্যকর প্রয়োগে ব্যর্থতাই এর প্রধান কারণ। ভুক্তভোগীদের যথাযথভাবে ডাক্তারি পরীক্ষা না হওয়া এবং সরকারি হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট তৈরিতে কারসাজির অভিযোগ—এ তো স্বাভাবিক ঘটনা! যারা উত্যক্তকারী, তাদের বাবা-মা ও প্রতিবেশীর শাসন কোথায়? এরা যদি পরিবার ও চারপাশ থেকে সমালোচনা ও শাসনের সম্মুখীন হতো তাহলে মামলা থেকে বের হয়েই ভিকটিমের বাড়িতে চড়াও হওয়ার সাহস পেতো না। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী, সংসদের বিরোধী দলের নেতা, সংসদের বাইরে প্রধান বিরোধী দলের প্রধান, স্পিকারসহ সরকারি-বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানেই নারীরা নেতৃত্বে রয়েছেন। সেক্ষেত্রে আমাদের এখানে নারী অনিরাপদ থাকছেন, তাদের সম্ভ্রম হারানোর শংকা নিয়ে বাড়ি থেকে বাইরে বেরোতে হচ্ছে কিংবা ঘরেও নরপশু ধর্ষকদের অনাকাঙ্ক্ষিত শিকার হওয়ারই আশংকা থাকছে কেন? এ বিষয়টিকে মামুলি ব্যাপার মনে না করে দল মত শ্রেণি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। ঢাকা