আসুন পানিবন্দি মানুষের পাশে দাঁড়াই

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২১:১৩
টানা বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অস্বাভাবিক জোয়ারে দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের চরাঞ্চল ও নিম্ন এলাকা ইতিমধ্যেই প্লাবিত হয়েছে। যমুনা ও তিস্তাসহ বেশ কিছু নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিপদাপন্ন হয়ে পড়ছে বিভিন্ন স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ। সর্বনাশা প্লাবনের পাশাপাশি বৃদ্ধি পাচ্ছে নদী ভাঙন। শত শত মানুষ নিমিষেই সর্বস্ব হারাচ্ছে নদীর আগ্রাসনে। দেশের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তরিতরকারির ফসলও নষ্ট হচ্ছে ব্যাপকভাবে। কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন সবজি পণ্য দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে এর ফলে। দেশের অন্যতম প্রধান নদী যমুনায় পানি বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সারিয়াকান্দিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে অস্বাভাবিকভাবে। পানির প্রবল তোড়ে চন্দনবাইশা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিকল্প রিং বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। যমুনা তীরবর্তী ধলিরকান্দি থেকে রৌহাদহ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙনের শিকার হচ্ছে। কামালপুরের রৌহাদহ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বিভিন্ন স্থানে স্লাব ধসে পড়ছে। তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ৩৮টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে পানির তোড়ে। নীলফামারীতেও তিস্তার পানিতে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। নারী, শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে অসহায় অবস্থার মুখে পড়েছে বানভাসি মানুষ। নোয়াখালী, ফেনী, ভোলা, শেরপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটের লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রবল বর্ষণ এবং জোয়ারের পানিতে। প্লাবিত এলাকাগুলোতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রলয়ঙ্করী সিডরের আঘাতে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় উপকূলীয় জনপদ রক্ষায় নির্মিত বেড়িবাঁধ পানির তোড়ে সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে বিদেশি সহযোগিতায় বেড়িবাঁধ সংস্কার, নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ করা হলেও তা যে উপকূলবাসীকে রক্ষা করতে ব্যর্থ—এটা সামপ্রতিক জোয়ারে প্লাবিত হওয়ার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়েছে। এখনো উপকূলীয় জনপদের মানুষ অরক্ষিত। অনেক জায়গায়ই আগ্রাসী সমুদ্র আর মানুষের বসতির মাঝখানে কোনো বাধা নেই। প্রসঙ্গত, আইলার আঘাতে ১৬৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ আংশিক বা পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপকূল পোল্ডার ও স্লুইসগেট এবং সড়ক যোগাযোগের অবস্থাও ছিল তথৈবচ। সিডর ও আইলার এত বছর পরও অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়া দুঃখজনক। পত্রিকার খবরে প্রকাশ, ভোলার দ্বীপ জনপদ মনপুরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। পানির উচ্চতা বাড়তে থাকায় জোয়ারের তীব্রতা আরো বেড়েছে। চরফ্যাশনে আরো নতুন নতুন এলাকা পানিবন্দি হয়ে পড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানেন যে, প্রতি বছর জুলাই ও অক্টোবরে জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় অঞ্চল প্লাবিত হয়। তাহলে কর্তৃপক্ষ কেন তা মোকাবেলায় স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছেন না, এটি একটি প্রশ্ন। উপকূলবাসীকে বাইরে রেখে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কথা চিন্তাও করা যাবে না। উপকূলবাসীকে রক্ষায় সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের আওতা আরো বাড়াতে হবে। উপদ্রুত এলাকাগুলোতে ত্রাণ তত্পরতার খবর এখনো পাওয়া যায়নি। বেশিরভাগ প্লাবিত এলাকায় সুপেয় পানির অভাব প্রকট। এ অবস্থা চলতে থাকলে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নদীনালার দেশ। বন্যা-জলোচ্ছ্বাস-টর্নেডো-সাইক্লোনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকে এ দেশের মানুষ। এ লড়াইয়ে শুধু সরকার নয়, সমাজের অবস্থাপন্নরা অসহায় পানিবন্দি মানুষের প্রতি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে এমনটিই কাম্য। ঢাকা