নিখোঁজের পাঁচ দিন পর গত শুক্রবার ভোরে শরীয়তপুর ধানুকার বিল থেকে সামছুন্নাহার (২২) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।
সামছুন্নাহার সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজের ডিগ্রির ছাত্রী ও শরীয়তপুর পৌর এলাকার দক্ষিণ বালুচরা গ্রামের সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী ইসহাক মোল্লার স্ত্রী। ২০১১ সালে ইসহাক ও সামছুন্নাহারের বিয়ে হয়।
গত রবিবার সামছুন্নাহার শ্বশুর বাড়ি থেকে বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পরে তার ভাসুর কাশেম মোল্লা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। ছাত্রীর মোবাইলের কললিস্ট চেক করে রেজাউল করিম নামে এক যুবকের সাথে একাধিকবার কথোপকথনের তালিকা পায় পুলিশ। পুলিশ রেজাউলের মোবাইল ফোন ট্রাকিং করে তাকে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র সাইফুল পেদা (১৮) ও দুলাল মিয়া (১৮) নামে দুইজনকে আটক করা হয়। তাদের স্বীকারোক্তি মতে, ধানুকার বিল থেকে শরীরের সাথে ইটের বস্তা বাঁধা অবস্থায় পানির নিচ থেকে সামছুন্নাহারের লাশ উদ্ধার করা হয়।
সামছুন্নাহারের চাচা নাসির উদ্দিন বলেন, রেজাউল এভাবে আমাদের মেয়েকে ডেকে নিয়ে হত্যা করবে কল্পনাও করতে পারিনি। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। সদর থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে রেজাউলের সাথে কলেজ ছাত্রীর পরকীয়া চলছিল। কলেজ ছাত্রীকে শ্বশুর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে। পরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। নাড়িভুঁড়ি বের করে শরীরের একাধিক স্থানে ফুটো করে ইটের বস্তা বেঁধে ধানুকা বিলের পানিতে লাশটি ডুবিয়ে দেয়া হয়। শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার সাইফুল্লাহ আল মামুন জানান, পরিকল্পিতভাবে ঠাণ্ডা মাথায় হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে। আটককৃতদের কাছ থেকে হত্যার বর্ণনা শুনে শিউরে উঠি। এত অল্প বয়সে এভাবে প্রমাণ নষ্টের জন্য তারা যে পদ্ধতি ব্যবহার করেছে তা সাধারণত প্রফেশনাল কিলাররাই করতে পারে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
