জায়গা হারানোর আতঙ্ক

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫৫
বার্নার্ড শ বলেছিলেন, পরিবর্তন ছাড়া কোনো উন্নয়ন হয় না। কথাটা সত্যি হলে, পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হওয়ার কথা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের। কারণ, এখানে পরিবর্তনই সবচেয়ে বেশি হয়! বাংলাদেশ দলের একাদশে পরিবর্তন আসাটা এখন এতোটাই নিয়মমাফিক ব্যাপার হয়ে গেছে যে, দলে গোটা পাঁচেক পরিবর্তন দেখার পরও আমরা প্রশ্ন করতে ভুলে যাই—কেন এতো পরিবর্তন? একেবারে হিসেব করে বললে, গতকাল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে পর্যন্ত চলতি বছরে ১২টি ওয়ানডে ম্যাচে ২১টি বদল হয়েছে বাংলাদেশের একাদশে। গতকাল অবশ্য একাদশে পরিবর্তন ছিল একটিই—তাসকিন আহমেদের জায়গায় দলে ফিরেছিলেন বাঁহাতি স্পিনার আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু মুশকিলটা হল, এই পরিবর্তনের জোয়ারের ফলে দলে প্রায় কোনো খেলোয়াড়ই নিশ্চিত হতে পারছেন না। পরিষ্কার করে বললে, মুশফিকুর রহিম নিজে এবং ওপেনার এনামুল হক বিজয় ছাড়া একজন খেলোয়াড়ও নেই, যিনি ২০১৪ সালের ১২টি ম্যাচের সবগুলোতে মাঠে নেমেছেন! অর্থটা পরিষ্কার—দলের বাকি নয়জন খেলোয়াড়ের মাথার ওপর সবসময় একাদশ থেকে বাদ পড়ার একটা হুমকি কাজ করছে। কিন্তু কেন এমন হবে? একটা টেস্ট খেলুড়ে একাদশে অন্তত ছয়-সাত জন খেলোয়াড়ের একটা ‘কোর গ্রুপ’ থাকবে না? সাময়িক পারফরম্যান্স যেমনই হোক, কিছু খেলোয়াড় কেন থাকবে না, যাদের ওপর দল বাজি ধরে যেতে পারবে! অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম নিজেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলা অবস্থায় অনুযোগের সুরে বলেছিলেন, খেলোয়াড়রা প্রতি মুহূর্তে দলে জায়গা হারানোর ভয়ে ভোগেন। পারফরম করতে না পারলেই বাদ পড়ে যেতে হবে; এই ভয় থাকায় তারা নাকি ঠিকমতো পারফরম করতে পারেন না। ভয়টা কে দিচ্ছে, মুশফিক? আমরা যতদূর জানি, একাদশে পরিবর্তনের কাজটা বোর্ড করে না, নির্বাচকরাও করেন না। করে টিম ম্যানেজমেন্ট; মানে অধিনায়ক ও কোচ। মূলত ক্রিকেট দলে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অধিনায়কের কথাই শেষ কথা হওয়ার কথা। তাহলে কী মুশফিকের কথা শেষ কথা নয় এখানে! মুশফিক নিজেই যখন এসব নিয়ে কথা বলেন, তখন অনুমান করতে পারি আমরা যে, এতোশত বদল মুশফিকের ইচ্ছেতেও হচ্ছে না। তখন আবার প্রশ্ন করা যেতে পারে—একাদশে অধিনায়কের অমতে এতো বদল কে করছেন? এসব প্রশ্নের উত্তর আপাতত না পেলেও আমরা বদলের চরিত্রটা একটু ফিরে দেখতে পারি। প্রথমেই আমরা একবাক্যে বলে দিয়েছি—মুশফিক ও এনামুল ছাড়া দলে কারো জায়গা নিশ্চিত নয়। এটাকে আরেকটু বড় করে বলা যেতে পারে, ইনজুরিতে না পড়লে মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং দু’দফায় নিষেধাজ্ঞায় না ভুগলে সাকিব আল হাসানও এই নিশ্চিতদের দলে থাকতেন। তারপরও সাতটি পজিশন নিয়ে এই এই ভয়ানক বদলের প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বছরের শুরুতে প্রথম ওয়ানডেতে হারের পরই। কিন্তু সেটা তেমন ভয়াবহ ছিল না। এশিয়া কাপে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের বিপক্ষে পরপর ম্যাচের মধ্যে একাদশে পাঁচটি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ! এরপর থেকে এই ধারাই ধরে রাখা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি এই সময়ে যাওয়া-আসার ‘রসিকতা’য় পুড়েছেন মুমিনুল হক। টেস্টের মতো ওয়ানডেতেও গত বছর খানেকের এই সেরা পারফরমার তিন ম্যাচের খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য বাদ পড়েছেন, এক ম্যাচ পরই আবার ফিরেছেন। আবার এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একাদশে জায়গা হয়নি! বার বার বলা হয়েছে, তাকে টেস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সেজন্য ওয়ানডে দলে কেন এমন যাওয়া-আসা তাকে করতে হবে, সেটা পরিষ্কার নয়। শুধু ওয়ানডের কথা বললে এই অস্থিরতাটা পরিষ্কার হবে না। টি-টোয়েন্টির আলাপটাও শুনুন। শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৬টি ম্যাচে বাংলাদেশ ১২ বার একাদশে পরিবর্তন এনেছিল!