ভারতীয় দলে ফিরতে মরিয়া জহির খান আগামী মাসে নিজ দেশে অনুষ্ঠেয় চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টুয়েন্টি টুর্নামেন্টটিকে কাজে লাগাতে চান।
পেসার জহির খান বেশ কিছু দিন যাবত্ ইনজুরির সঙ্গে লড়াইয়ে ব্যতিব্যস্ত। সর্বশেষ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়াম লিগে (আইপিএল) ইনজুরিতে পড়েন তিনি। এ কারণে চলতি ইংল্যান্ড সিরিজে দলে ডাক পাননি। তবে সুস্থতা শেষে আবারো দলে ফিরতে উদগ্রীব এই বাঁ-হাতি পেসার। তাই আগামী মাসের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টুয়েন্টি প্রতিযোগিতা দিয়ে আবার মাঠে ফিরতে চান তিনি। এ ব্যাপারে জহির বলেন, ‘জাতীয় দলে ফিরতে মুখিয়ে আছি আমি। তাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগকেই টার্গেট করেছি। এছাড়া দেখতে চাই ইনজুরি থেকে সুস্থ হবার পর আমার অবস্থা কোন পর্যায়ে রয়েছে।’
সর্বশেষ আইপিএলে জহির খানকে দলে নেয় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। কিন্তু ইনজুরির কারণে দলকে খুব বেশি সেবা দিতে পারেননি জহির খান। টুর্নামেন্টের বেশির ভাগ ম্যাচেই ডাগ আউটে বসে থাকতে হয় তাকে। এমনকি এই ইনজুরির কারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি টেস্ট সিরিজও খেলা হয়নি তার।
তবে আইপিএল শেষে ভারতীয় দলের সাবেক ফিজি’ও এন্ড্রি লেইপাস ও ট্রেইনার আদ্রিয়ান
লে রুক্সের শরণাপন্ন হন জহির। দীর্ঘদিন তাদের তত্ত্বাবধানে থেকে ইনজুরি থেকে সেরে উঠেছেন তিনি। তাই সুস্থ হয়েই ভবিষ্যত্ লক্ষ্যের কথা জানালেন জহির, ‘জাতীয় দলে ফিরতে মুখিয়ে আছি আমি। আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স লিগকেই টার্গেট করেছি। নিজেকে যাচাই করার এটা ভালো সুযোগ। এছাড়া দেখতে চাই ইনজুরি থেকে সুস্থ হবার পর আমার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া কোন পর্যায়ে রয়েছে।’
ফিটনেস ফিরে পেলেও, বোলিং নিয়ে এখনো কাজ শুরু করেননি জহির। খুব শীঘ্রই বোলিং দিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবেন তিনি। এ ব্যাপারে একদা ভারতীয় দলের অপরিহার্য বোলারটি বলেন, ‘চলতি সপ্তাহে বোলিং দিয়ে দ্বিতীয় পর্যায়ের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করবো। এরপর দেখতে চাই বোলিং করার জন্য আমি কতটা ফিট। তবে আশা করছি পাঁচ সপ্তাহের মধ্যেই মাঠে ফিরতে পারবো। ইনজুরিতে পড়লে সহজে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। সুস্থ হয়ে ফিরতে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। এজন্য ভালো অভিভাবক প্রয়োজন পড়ে। যার তত্ত্বাবধানে পুনর্বাসনটা ভালোভাবে করা সম্ভবপর হয়। আর যখন শতভাগ ফিট হওয়া যায়, ঠিক তখনই মাঠে ফেরা উচিত। নয়ত সমস্যা বড় আকার ধারণ করতে পারে।’
সদ্য শেষ হওয়া টেস্ট সিরিজে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-১ ব্যবধানে হারের তেতো স্বাদ পায় ভারত। তাতে হতাশ হলেও, খুব বেশি চিন্তার কিছু দেখছেন না তিনি। ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার টেস্ট সিরিজ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ৩৫ বছর বয়সী এ পেসার বলেন, ‘ দলটি তরুণ। এদের অনেক বেশি সময় দিতে হবে। বিদেশের মাটিতে তারা যত বেশি খেলবে তারা তত বেশি শিখতে পারবে। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। আর বর্তমান দলে অনেক ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। যারা ভবিষ্যতে তারকা হবার যোগ্যতা রাখে। যার মধ্যে আজিঙ্কা রাহানে, মুরালি বিজয় ও ভুবেনশ্বর অন্যতম।’ এই সিরিজে পারফরমেন্সের দিক দিয়ে সেরাই ছিলেন দুই পেসার ইশান্ত শর্মা ও ভুবেনশ্বর কুমার। দ্বিতীয় টেস্টে একাই ইংল্যান্ডকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন ইশান্ত। পুরো সিরিজ জুড়েই বল ও ব্যাট হাতে সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন ভুবেনশ্বর। তাই ইংল্যান্ড পেসার জেমস অ্যান্ডারসনের সাথে যৌথভাবে হয়েছেন সিরিজ সেরা।
ইশান্ত ও ভুবেনশ্বরের পারফরমেন্স ছিল চোখে পড়ার মত। আর তাতে মুগ্ধ জহির নিজেও, ‘দ্বিতীয় টেস্টে ইশান্তের পারফরমেন্স ছিল দুর্দান্ত। সে ইতোমধ্যে ৫০ টেস্ট খেলে ফেলেছে। তার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। তাই তার যোগ্যতা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। ভারতের পেস আক্রমণের দায়িত্ব নেয়ার মত যোগ্যতা ইশান্তের রয়েছে। ইশান্তের মত শুধু বল হাতেই নয়, ব্যাট হাতে চমক দেখিয়েছেন ভুবেনশ্বর কুমার। তাকে দেখে মনে হয়েছে, সে (ভুবি) অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। বিদেশের মাটিতে এমন অলরাউন্ডার দলে থাকলে, দলের অনেক ভারসাম্য আসে। আর ভুবি যদি এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে তবে দলের জন্য তা হবে সবচেয়ে বড় বোনাস।’ বাসস
