দেশের উত্তরাঞ্চলে পাবনার সাঁথিয়ায় সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে একমাত্র গ্যাস-তেল কূপ খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। মোবারকপুর গ্যাস কূপ খননে ভূ-কাঠামোয় সবচেয়ে নতুন ধরনের খনন যন্ত্র (রিগ) বিজয়-১২ ব্যবহার হচ্ছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অধ্যাপক হোসেন মনসুর এই কূপ খনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই নতুন ভূ-কাঠামোয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। দেশে এর আগে এ ধরনের ভূ-কাঠামোয় কূপ খননের কাজ করা হয়নি। রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন কোম্পানি-বাপেক্স এটি শুরু করেছে। আশাকরি, এখানে আমরা সফল হব।’ এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল বাকী, প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প খনন অধিকর্তা শহিদুল্লাহ।
পাবনার সুজানগর উপজেলার আহম্মদপুর ইউনিয়নের মোবারকপুরে এ গ্যাস-তেল ক্ষেত্রটি ১৯৮৪ সালে আবিষ্কৃত হয়। তিন দশকের বেশি সময় ধরে অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামে কূপ খনন কাজ উদ্বোধন করা হল। বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল বাকী বলেন, মোবারকপুরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কাজের জন্য কূপ খনন করতে নতুন ড্রিলিং রিগ নিয়ে বাপেক্সের কর্মকর্তারা এখানে কাজ করছেন। তিনি বলেন, মোবারকপুরে শুধু গ্যাস নয়, তেল পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। বাপেক্সে ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মোবারকপুরে অনুসন্ধান কাজ চালানোর জন্য ৮ দশমিক ৮ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪ হাজার ৫০০ মিটার পর্যন্ত অনুসন্ধান কূপ খনন করা হবে। ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ হাইড্রোকার্বন ইউনিট ও জার্মানির প্রাক্লা সিস্মস কোম্পানি উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চালায়। এ সময় মোবারকপুর গ্রামে গ্যাস ও তেলের সম্ভাব্য মজুতের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। তখন জানানো হয়েছিল, মোবারকপুরে এ কূপের প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার গভীরে ২০০ থেকে ১ হাজার বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ও ২.১ মিলিয়ন (২১ লাখ) ব্যারেল তেল মজুত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
