সাক্ষী সুরক্ষা আইন ও স্থায়ী তদন্ত সংস্থা গঠন করুন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪২
সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য পৃথক স্থায়ী তদন্ত সংস্থা গঠনে সরকারকে জোর সুপারিশ করেছে আইন কমিশন। কমিশন মনে করে, এ ধরনের আইন করা হলে সাক্ষীরা নির্ভয়ে আদালতে ফৌজদারি মামলায় সাক্ষ্য দিতে আসবেন। দেশে সাক্ষী সুরক্ষা আইন না থাকায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষী ও ভিকটিমদের সুরক্ষায় বিধিমালা প্রণয়ন করে। ওই বিধিমালা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী ও ভিকটিমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে সরকার। সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়নে কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, সমাজে প্রভাবশালী লোকের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সকল ধরনের অপরাধের সংখ্যাও আশংকাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। এমতাবস্থায় সাধারণ সাক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে প্রায়ই অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে সাক্ষীদের নিরাপত্তার জন্য ‘সাক্ষী সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে। এটা নিশ্চিত যে, রাষ্ট্র সাক্ষীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হলে অপরাধীরা সাক্ষ্যের অভাবে খালাস পেতে থাকবে, যা দেশের আইন, বিচার ব্যবস্থা ও আইন-শৃঙ্খলার জন্য মারাত্মক হুমকি হবে। প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রণীত বিধিতে বলা হয়, সাক্ষী অথবা ভিকটিম প্রার্থনা করলে তার বা তাদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করবে সরকার। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ মোতাবেক সাক্ষী অথবা ভিকটিমের নিরাপত্তা ও তদারক নিশ্চিত করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যগণ দ্বারা প্রহরা প্রদানপূর্বক সাক্ষী এবং ভিকটিমকে বিচারকক্ষে আনা-নেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এছাড়া ক্যামেরা ট্রায়ালে যেসব সাক্ষী সাক্ষ্য দেবেন তাদের পরিচয় প্রকাশের ওপর প্রসিকিউটর ও ডিফেন্স কাউন্সেলের তথ্য প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। যদি কোন আইনজীবী এ ধরনের ক্যামেরা ট্রায়ালের তথ্য প্রকাশ করেন তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনের ১১(৪) ধারা মোতাবেক ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে ট্রাইব্যুনাল। সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের চেয়ারম্যান এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিশন এ সুপারিশ করে। ফৌজদারি মামলাসমূহের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পৃথক স্থায়ী তদন্ত সংস্থা গঠনের সুপারিশে বলা হয়, সাধারণত থানায় কর্মরত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিভিন্ন রকমের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকতে হয়। ফলে তাদের পক্ষে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৭ ধারায় উল্লি¬খিত সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হয় না। প্রায়ই দেখা যায় পুলিশ তদন্তকাজে মনোনিবেশ না করে দায়সারাভাবে ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে। ফলে বিচারে অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে খালাস পেয়ে যান। তাই ঘটনার পর পরই সাক্ষ্য সংগ্রহ করা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর পরই দ্রুত তদন্তকাজ আরম্ভ করলে সাক্ষ্য-প্রমাণ সহজেই পাওয়া সম্ভব এবং এতে বিচারে সাজার হার বেড়ে (রেইট অব কনভিকশ্ন) যাবে বলে আশা করে কমিশন। উল্লেখ্য, এদেশে ফৌজদারি মামলায় সাজার হার আশংকজনকভাবে অপ্রতুল।