শরতের সকালে প্রবীণ-নবীন বাকশিল্পীদের প্রাণোচ্ছল ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে উত্সর্গ করে সংবৃতার আবৃত্তি উত্সব। গতকাল শুক্রবার শুরু হয় দুই দিনের এই উত্সব। প্রথম দিনে উচ্চারিত হয় বিভিন্ন কবির কবিতা। ‘শুধু অকারণ পুলকে, নদী জলে পড়া আলোর মতন ছুটে যা ঝলকে ঝলকে’ শ্লোগান নিয়ে কখনও প্রতিযোগীর কণ্ঠে আবার কখনও প্রতিষ্ঠিত বাকশিল্পীর শিল্পিত উচ্চারণে মুখরিত হয় উত্সব। বৃন্দ ও একক কণ্ঠে কবিতা পাঠ ও প্রতিযোগীদের উদ্দীপ্ত আবৃত্তিতে উঠে আসে বহমান জীবনের নানা বিষয়। সঙ্গে ছিল বাচিকশিল্পীদের আড্ডা।
নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই উত্সবের আয়োজন করেছে সংবৃতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানোর মধ্য দিয়ে উত্সবের উদ্বোধন করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এ সময় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শহীদ উল্লাহ খন্দকার ও আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাকসুর-এ সাত্তার কল্লোল উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন সংবৃতার সভাপতি একেএম শামসুদ্দোহা।
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, ‘নষ্ট সময় পেরিয়ে সুসময়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। ঘুরে দাঁড়ানো এই দেশটি এখন তার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কাছে ফিরে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসি হয়েছে। রাজাকারের ফাঁসি হয়েছে। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার অপরাধীদের বিচার হচ্ছে। তাই এখনকার সময় নষ্ট সময় নয়, ঘুরে দাঁড়ানোর সময়।
উত্সবের প্রথম দিন ছিল এক আবৃত্তি, বৃন্দ পরিবেশনা ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন মীর বরকত, ঝর্ণা সরকার, মজুমদার জুয়েল, সুপ্রভা সেবতি, মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল, অনন্য লাবণী পুতুল প্রমুখ। ‘মৃতের শরীরে শিশিরের শব্দ’ শীর্ষক বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে প্রজন্মকণ্ঠ। মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র উপস্থাপন করে ‘মুখোমুখি দাঁড়াবার এই তো সময়’।
আজ শনিবার একই স্থানে অনুষ্ঠিত হবে উত্সবের সমাপনী আয়োজনে। সকাল থেকে শুরু হওয়া আয়োজনে থাকবে একক ও সম্মেলক কণ্ঠে আবৃত্তি পরিবেশনা ও প্রতিযোগিতা। সন্ধ্যা ৭টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রতিযোগীদের হাতে তুলে দেয়া হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।
আইজিসিসিতে বাউল গানের আসর: ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র-আইজিসিসির আমন্ত্রণে গতকাল বাউল সঙ্গীত পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে পল্লী বাউল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা। তারা পরিবেশন করে কালু শাহ, পল্লী কবি জসীম উদ্দীন, শাহ আবদুল করিম ও আলাউদ্দিন বয়াতির গান। ছিল মাইজভান্ডারির গানও।
শুরুতেই তারা পরিবেশন করেন কালু শাহের গান ‘দয়া করে এসো দয়াল’। এরপর পরিবেশন করে জসীম উদ্দীনের লেখা লোকগীতি ‘কি বলিব সোনার চান্দরে’। এর পর পর তিনটি শাহ আবদুল করিমের গান পরিবেশন করেন। গানগুলো হলো- ‘তুমি রাখো কিবা মারো এই দয়া করে’, ‘বন্ধে মায়া লাগাইছে পিরিতি শিখাইছে’ ও ‘আমি কূল হারা কলঙ্কিনী’। এরপর কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে তার পর পর পরিবেশন করে হাছন রাজার সেই বিখ্যাত দু’টি গান ‘নিশা লাগিলরে’ ও ‘বাউলা কে বানাইলো রে’। এর পর আরো গান পরিবেশন করা হয় শাহ আবদুল করিমের। এর মধ্যে ছিল ‘গাড়ি চলে না চলে না’, ‘কোন মেস্তরি নাও বানাইলো কেমন দেখা যায়’, ‘আমার বন্ধু কই পাবো সখি গো’সহ বেশ কয়েকটি গান। আলাউদ্দিন বয়াতির গান পরিবেশন করে।
