গল্প নয় সত্যি

নিজে থেকেই চলবে জাহাজ!

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ১৯:৩১
সভ্যতার ক্রমবিকাশে এক স্থানের পণ্য কিংবা সেবা অন্য স্থানে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বটা মানুষের কাছে বহু যুগ ধরেই অপরিসীম। আর তাই এই মুহূর্তে আপনি যখন এই লেখাটি পড়ছেন তখনও নানা ধরনের পণ্য নিয়ে সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে পাঁচ হাজারেরও বেশি জাহাজ। এর কোনো কোনোটা যেমন হাজার খানেক কন্টেইনার নিয়ে সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে তেমনি চারটি ফুটবল মাঠের সমান ঢাউস আকৃতির জাহাজও আছে। তবে বিপদের কথা হলো এই যে এই বিপুল পরিমাণ জলযান আর এদের নিঃসৃত কার্বনের কারণে ক্রমেই বিপন্ন হয়ে উঠছে পরিবেশ। আর তাই দূষণ কমিয়ে আনতে এবং সাগরে নানা ধরনের দূর্ঘটনার মাত্রা কমিয়ে আনতে এখন স্বচালিত জলযানের কথা ভাবছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের দাবি, এখনই যেখানে আধুনিক জাহাজগুলোতে ক্রুয়ের সংখ্যা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে সেখানে অদূর ভবিষ্যতে একেবারে মনুষ্যবিহীন জাহাজের বন্দোবস্ত করতে তাদের হয়তো খুব ঝক্কি পোহাতে হবে না। আর এ ধরনের জাহাজ ঠিক কী বাড়তি সুবিধা দেবে সে প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও জাহাজের নকশা নিয়ে কাজ করা ম্যাট কলেট জানিয়েছেন, দিনের পর দিন একই ধরনের কাজ করতে হয় এমন যেকোনো কাজেই মানুষের চাইতে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার দক্ষতা তুলনামূলক বেশি। এ কারণে মাসের পর মাস সমুদ্রে ভেসে বেড়াতে গিয়ে সাধারণ নাবিকদের মধ্যে যখন একঘেঁয়েমি ও মনোযোগের অভাবের কারণে নানা ভুলভ্রান্তি দেখা দেয় তখন কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত স্বচালিত জলযানের ক্ষেত্রে তা হবে না। আবার এখন যেখানে এ ধরনের জাহাজে নাবিক ও ক্রুদের ভ্রমণক্লান্তি কমিয়ে আনতে দ্রুতগতির জাহাজের মাধ্যমে যাত্রার সময় কমিয়ে আনতে হয় সেখানে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত জাহাজগুলো অনেক বেশি সময় ধরে সাগরে ভাসতে পারবে। আর কম গতি মানেই কম কার্বন নিঃসরণ ও পরিবেশের উপকার। এদিকে মানুষবিহীন জলযান তৈরির লক্ষ্যে চালু হওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি প্রকল্পের গবেষকরা জানিয়েছেন, স্বচালিত এ ধরনের জলযান তৈরি করতে মৌলিক কোনো বাধা নেই এবং এ বিষয়ে জাহাজশিল্প নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরও কোনো আপত্তি নেই।