তথ্য অধিকার আইন আছে, তথ্য নেই

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০১৪, ২০:৪২
তথ্য পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করে সরকার তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন করলেও সেই আইনে তথ্য চেয়ে ৩ মাসেও তথ্য পাওয়া যায়নি দিনাজপুরের ফুলবাড়ি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আশরাফ আলী খান এবং উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফের কাছ থেকে। তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রদানে বাধ্যবাধকতা থাকলেও ঐ দুই কর্মকর্তা সেই আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলেছেন। জানা যায়, ২০১২-১৩ ও ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) দপ্তরের অধিনে বাস্তবায়নকৃত এডিপি প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ঐ দুই অর্থ বছরে বাস্তবায়নকৃত এডিপি’র প্রকল্পসমূহের নাম, বরাদ্দকৃত অর্থের পরিমাণ, প্রকল্প চেয়ারম্যানের নামসহ প্রকল্পের কাজ শুরু এবং শেষ হওয়ার তারিখসহ তালিকা চেয়ে গত ২৫ মে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আশরাফ আলী খানের কাছে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন দৈনিক ইত্তেফাকের এই সংবাদদাতা। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই সংক্রান্ত বিষয়ে কোন তথ্য তাকে সরবরাহ করেননি ঐ প্রকৌশলী। একইভাবে সরকারি পুকুর মত্স্যজীবীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে দেয়া হবে এমন তথ্যের ভিত্তিতে মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি গঠনের হিড়িক পড়ে। অর্থের বিনিময়ে উপজেলা বিভিন্ন এলাকার রাজনীতিকর্মী, শিক্ষক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষকে রাতারাতি মত্সজীবী বানিয়ে উপজেলা সমবায় দপ্তরের সুপারিশে বিভিন্ন নামে-বেনামে মত্স্যজীবী সমবায় সমিতি নিবন্ধন দেয়ার অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গত ২৯ মে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউফের কাছে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেন এই সংবাদদাতা। কিন্তু তার কাছ থেকেও এখন পর্যন্ত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এক্ষেত্রে অনেকেরই সন্দেহ, ঐসব দপ্তরের অনিয়ম ও দুর্নীতির যে অভিযোগ ওঠেছে সেগুলোর সত্যতা রয়েছে বলে ঐ কর্মকর্তারা তাদের দুর্নীতি আড়াল করতেই তথ্য দিচ্ছেন না। এটা করে তারা তথ্য অধিকার আইনকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তথ্য অধিকার আইনে তথ্য প্রদানে কর্মকর্তারা বাধ্য। কেন তথ্য দিচ্ছেন না সেটি বুঝতে পারছি না। কর্মকর্তাদের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলে হবে।